আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইজরায়েলে এবার ক্লাস্টার বোমা ফেলল ইরান। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ইরানের লক্ষ্য। তাই তারা ইজরায়েলে খুব কম হলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে অথবা ছোট বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। সাত দিন ধরে চলা যুদ্ধে এই প্রথম ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের খবর পাওয়া গিয়েছে। ইজরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা এছাড়া এই বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ইজরায়েলি সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ইজরায়েলি সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডটি প্রায় ৪ মাইল (৭ কিমি) উচ্চতায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মধ্য ইজরায়েলের উপর প্রায় ৫ মাইল (৮ কিমি) ব্যাসার্ধে প্রায় ২০টি সাবমিনিশন ছোঁড়া হয়েছে।
টাইমস অফ ইজরায়েলের সামরিক সংবাদদাতা ইমান্যুয়েল ফ্যাবিয়ানের প্রতিবেদন অনুসারে, ইজরায়েলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত শহর আজোরের একটি বাড়িতে ছোট বোমা আঘাত হানে। তার ফলে বেশ কিছু ক্ষয় ক্ষতি হয়। বোমায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
ক্লাস্টার বোমা সারা বিশ্বে আজও বিতর্কিত। এগুলি নির্বিচারে ছুঁড়ে ফেলা যায়। যার মধ্যে কিছু তৎক্ষণাৎ বিস্ফারিত হতে পারে, কিছু আবার নাও হতে পারে। এমনও দেখা গিয়েছে সংঘর্ষ শেষ হওয়ার অনেকদিন পরে সেই বোমা ফেটে মানুষ মারা গিয়েছেন, আহত হয়েছেন। তাই যে বোমাগুলি বিস্ফারিত হয়নি সেগুলির বিপদ সম্পর্কে জনসাধারণের সতর্ক করতে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী একটি গ্রাফিক প্রকাশ করেছে।
“সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে চায়। ক্ষতির পরিধি সর্বাধিক করার জন্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে তারা।”-এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন ইজরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন এবং ওয়াশিংটনে ইজরায়েলের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের কোনও জবাব দেয়নি। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সমিতির অ্যাডভোকেসি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল ক্লাস্টা বোমা সম্পর্কে বলেছেন , “এগুলি ভয়াবহ অস্ত্র যার বিস্তৃত এলাকা ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে যদি এটি কোনও বেসামরিক জনবহুল এলাকায় ব্যবহার করা হয় তাহলে পরেও ধ্বংস আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।”
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে তেহরানের জানা উচিত যে ক্লাস্টার বোমা সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পরিবর্তে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে। প্রসঙ্গত, ইরান এবং ইজরায়েল ২০০৮ সালে ১১১টি দেশ এবং ১২টি অন্যান্য সংস্থার দ্বারা স্বাক্ষরিত ক্লাস্টার বোমার উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর এবং ব্যবহারের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিতে অস্বীকৃত হয়েছিল।
ক্লাস্টার বোমা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের পর, ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা সরবরাহ করে। কিভের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত বলা হয় রুশ সেনাও ক্লাস্টার বোমা ছুঁড়েছে। তাই তারাও বাধ্য হয়েছে একই কাজ করতে।