নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: ভারত বিশ্বের কাছে পাকিস্তানের রূপ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জাপানে গিয়েছে। সেই দলে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার টোকিওতে দাঁড়িয়ে তিনি পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এদিন নিজের বক্তব্যে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের একনিষ্ঠ পূজারী বলে উল্লেখ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। টোকিও থেকে প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে তিনি আবেদন করেন সন্ত্রাসের বিশ্বব্যাপী প্রচার করার।
পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান বিশ্বের কাছে ভারতের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। তাই ভারত তার ৭টি প্রতিনিধি দলকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে পাঠাচ্ছে পাকিস্তানের স্বরূপ সামনে আনার জন্য। তাঁরা এটাই জানাচ্ছেন যে পাকিস্তানের কথা এবং কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক। প্রতিনিধিদল পাঠানোর মাধ্যমে বিশ্বকে এই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে যে সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেবে।
শনিবার টোকিওতে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেছেন যে ভারত সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করবে না। তাঁর কথায়, “আমরা ভয়ের কাছে মাথা নত করব না। ভারত এখন সন্ত্রাসবাদের জবাব সেই একই ভাষাতেই দেবে যে ভাষা তারা (পাকিস্তান) বোঝে। আমরা সুনির্দিষ্ট, নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। কিন্তু আমরা পিছু হটছি না। আমাদের সমস্ত প্রতিক্রিয়া এবং পদক্ষেপগুলি সুনির্দিষ্ট, সুচিন্তিত এবং অ-উস্কানিমূলক ছিল।”
অভিষেক আরও বলেন, “আমরা কিছু বিশেষ ছবি এবং ফুটেজ প্রকাশ করব যাতে পাকিস্তানের স্বরূপ গোটা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়।” তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি এদিন সরাসরি অভিযোগ এনে বলেছেন যে পাকিস্তান লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে রক্ষা করে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলের সামনে অভিষেক তুলে ধরেছেন ড্রোন, মর্টার, বন্দুক হামলা চালিয়ে পাকিস্তান যেভাবে ভারতের সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে তা অন্যায্য। পাশাপাশি দেখিয়েছেন সেই সব ছবি যেখানে দেখা গিয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নিহত সন্ত্রাসীদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তারা।
অভিষেক ভারতীয় প্রবাসীদের ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, “সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যে ভারতীয় প্রবাসীদের প্রচুর প্রভাব রয়েছে। আপনারাই ভারত জয় করেছেন। আপনাদের শ্বাস প্রশ্বাসে মিশে রয়েছে ভারতের নাম। আমি চাই আপনারাই ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি প্রচার করুন এবং বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বার্তা ছড়িয়ে দিন।”
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে একইসঙ্গে গলা মিলিয়েছেন ভারতের সকল রাজনৈতিক দলগুলি। প্রত্যেকেই একসময় চেয়েছিলেন বদলা। এখন চাইছেন বিশ্ব জানুক ভারত সন্ত্রাসবাদীদের রেয়াত করে না।তাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দলে থাকার ডাক পেয়ে পিছিয়ে যাননি অভিষেক। পাকিস্তানকে কার্যত ধুয়ে দিয়ে এদিন বলেছেন, “পহেলগাঁও হামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন টিআরএফ (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) হামলার দায় স্বীকার করে। এটি লস্কর-ই-তৈবার একটি ছায়া সংগঠন যাকে জাতিসংঘ সন্ত্রাসী সংগঠন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এটাও জানি যে পাকিস্তান কীভাবে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকা থেকে লস্করের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।”
তারপরেই তৃণমূলের যুব সেনাপতির দাবি করেন, “বিশ্বকে যদি সন্ত্রাসবাদ থেকে বাঁচাতে হয়, তাহলে প্রথমে এর পৃষ্ঠপোষক (পাকিস্তান) কে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায় এই বাবা-মায়েরা আরও পাগল কুকুরের জন্ম দিতেই থাকবে। আমি বিরোধী দল থেকে এসেছি, তাও আমি সবসময় বলেছি – পাকিস্তানের সঙ্গে সেই ভাষায় কথা বলা উচিত যে ভাষা তারা বোঝে।”
নির্লজ্জ প্রতিবেশীদের একহাত নিয়ে অভিষেক বলেন, “সন্ত্রাসবাদ যদি পাগলাটে কুকুর হয়, তাহলে পাকিস্তান তার বিষাক্ত পালক। প্রথমে আমাদের এই বিষাক্ত পালককে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নাহলে এটি আরও পাগলা কুকুর তৈরি করতে থাকবে।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্য শেষ করেন ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়ে।