নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাক গুপ্তচর সংস্থার দুই শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকের পরেই সেনাপ্রধানের পদ থেকে জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানকে হটাতে নতুন খেলা শুরু করেছেন ক্ষমতালোভী মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আর ওই খেলায় পাশে চাইছেন খালেদা জিয়ার দল বিএনপি এবং মুক্তিযুদ্ধে পাক গণহত্যাকারীদের দোসর জামায়াত ইসলামী-সহ দেশের সব মৌলবাদী এবং জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাকে। সেনাপ্রধান ওয়াকারকে শায়েস্তা করার কৌশল নির্ধারণে আজ শনিবারই (২৪ মে) বৈঠকে ডেকেছেন বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নেতাদের। সন্ধে সাতটায় বিএনপি এবং রাত আটটায় জামায়াত ইসলামী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য ইউনূসের ষড়যন্ত্রে সামিল হওয়া নিয়ে খানিকটা দোলাচলে রয়েছে খালেদার দল। এদিন সকালে বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, ইউনূসের মতো গোখরোকে বিশ্বাস করা মানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। তাই ডাকলেও বৈঠকে যাওয়া হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সার্বিক পরিস্থিতি ও নতুন চক্রান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৈঠকে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তের ভার ওঁর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির ওই শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘গত সপ্তাহে দেখা করার জন্য চার দিন ধরে ইউনূসের কাছে বার বার সময় চাওয়া হয়েছিল দলের তরফে। কিন্তু সাক্ষাতের জন্য সময় দেননি তিনি। অথচ সকাল-বিকাল আইএসআইয়ের মদতে তৈরি হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগের পরে কীভাবে বিএনপিকে কোণঠাসা করা যায় সেই ছক কষেছেন। বিএনপির ভাবমূর্তি কলুষিত করতে পাকিস্তানপন্থী জাতীয় নাগরিক পার্টিকে রাজপথে নামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বুধবার ‘দরবার’-এ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামান ‘মানবিক করিডর’, ‘চট্টগ্রাম বন্দর’ ও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার পরে পদ হারানোর ভয়ে এখন বিএনপির প্রতি প্রেম জেগগে উঠেছে।’
তদারকি সরকারের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ‘নিজর পদ বাঁচানোর পাশাপাশি পথের কাঁটা সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামানকেএ কী করে উপড়ে ফেলা যায়, সেই পথের সন্ধান চালাচ্ছেন ইউনূস। ইস্তফার নাটক করে দেশের মুসলিমদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি ইউনূস। সেনাপ্রধানের ভাবমূর্তি কলুষিত করতে এবং ওয়াকারকে হটাতে পুরোটাই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের লিখে দেওয়া চিত্রনাট্য।’
সূত্রের খবর, মুসলিম মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই শিয়ালের মতো ‘হুক্কাহুয়া’ স্বরে রব তুলেছেন ‘ইউনূসের পদত্যাগ’ চলবে না। এবার বিএনপিকে দিয়ে ওই একই দাবি তুলিয়ে সেনাবাহিনীকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, দেশের সব রাজনৈতিক দল তদারকি সরকারের পাশে রয়েছে। যাতে সেনাপ্রধান ও তাঁর অনুসারী আধিকারিকরা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা নিয়ে চাপ সৃষ্টি না করেন।