নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে সামরিক অভিযানের চাঞ্চল্যকর কভারেজের জন্যে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ চ্যানেলগুলির তীব্র সমালোচনা করলেন বলি অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা। তাঁর মতে, নাটকীয়ভাবে দেখানো হচ্ছে পাকিস্তানের উপর ভারতের সামরিক অভিযান। এই কারণেই সংবাদ চ্যানেলগুলির উপর ক্ষিপ্ত সোনাক্ষী। শুক্রবার (৯ মে) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে, অভিনেত্রী জানিয়েছেন যে, দেশের এমন যুদ্ধ উত্তেজনা পরিস্থিতিতে তথ্য দেওয়ার থেকে বেশি নাটক করছে সংবাদ চ্যানেলগুলি। গতকাল তথা বৃহস্পতিবার (৮ মে) গুজরাত, পঞ্জাব, রাজস্থান এবং জম্মু-কাশ্মীর সহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় রাজ্যে পাকিস্তান ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এরপরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হয়ে গিয়েছে। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী সফলভাবে পাকিস্তানের ছোড়া সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র, মিসাইলকে নিষ্ক্রিয় করেছে। এরপর আজ ৯ মে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে মিডিয়া আউটলেট এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে একটি সরকারী নোটিশ দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা অভিযান এবং সৈন্যদের গতিবিধির রিয়েল-টাইম যেন কোনভাবেই সংবাদমাধ্যম কভারেজ না করে।

এরপরেই পোস্টটির প্রতিক্রিয়ায় সোনাক্ষী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, “আমাদের সংবাদ চ্যানেলগুলি একটা রসিকতা! সঞ্চালকদের অতিরিক্ত নাটকীয় দৃশ্য এবং শব্দ প্রভাব, চিৎকার দেখে আমি ক্লান্ত! আপনারা এত নাটক না করে, সঠিক কাজ করুন। যেমনটা তথ্য পাচ্ছেন, ঠিক তেমনটাই প্রকাশ করুন। বাড়তি কথা বলবেন না। যুদ্ধকে চাঞ্চল্যকর করে তোলা এবং ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা বন্ধ করুন। মানুষ কেবল সঠিক তথ্য জানতে চায়। সংবাদের নামে এই আবর্জনা দেখা বন্ধ করুন।” আজ কার্গিল যুদ্ধ, ২৬/১১ মুম্বই হামলা এবং কান্দাহার ছিনতাইয়ের মতো অতীতের ঘটনাগুলি উল্লেখ করে সরকারি পরামর্শে সতর্ক করা হয়েছে যে, অকাল বা যাচাই না করে কোনও তথ্য দেবেন না। যা সেনাদের জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।মন্ত্রণালয় সকল গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও-তে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) নয়টি সন্ত্রাসী শিবিরে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। এরপর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়।