নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জেলেই থাকতে হচ্ছে ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ওরফে চিন্ময় প্রভুকে। কারণ চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। ফলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন বহাল থাকলেও জেল থেকে বাইরে আসতে পারছেন না বাংলাদেশের হিন্দুদের ‘পরিত্রাতা’।
গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় হিন্দু নিধন যজ্ঞ। নির্বিচারে লুট হয় হিন্দুদের বাড়িঘর-দোকান-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। ভাঙচুর হয় মন্দির-প্রতিমা। হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক মঠের অধ্যক্ষ তথা ইসকন সন্ন্যাসী চিনময়কৃষ্ণ দাস ওরফে চিন্ময় প্রভু। গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের বড় সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশের পর গত ৩১ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। তাতে ভয় না পেয়ে ২২ নভেম্বর রংপুরে আরও এক বড় সমাবেশ করেন চিন্ময় প্রভু। মুসলিম প্রধান দেশে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীর এমন দুঃসাহস মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তানি পোষ্যভৃত্য তথা মৌলবাদী মোল্লা ইউনূসের সরকার। গত ২৫ নভেম্বর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
গত ২ জানুয়ারি চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরবর্তীতে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। যদিও এতদিন ওই মামলার শুনানি হয়নি। গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশের হিন্দুদের ‘ত্রাণ কর্তা’ চিন্ময় প্রভুর জামিন মঞ্জুর করেছিল হাইকোর্টের বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার বেঞ্চ। ওই জামিনের কথা জানতে পেরেই ঘুম উবে যায় ইউনূস সরকারের। তড়িঘড়ি জামিন স্থগিত রাখার আর্জি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তথা জামায়াত ইসলামীর আইনজীবী সেলের শীর্ষ নেতা রেজাউল হকের দ্বারস্থ হয় সরকার পক্ষ। আর প্রভুদের নির্দেশ মেনেই জামিন স্থগিত করেন বিচারপতি রেজাউল হক। এ সংক্রান্ত শুনানিতে সরকারের হয়ে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও আরশাদুর রউফ। তবে চিন্ময় প্রভুর কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। কীভাবে একতরফা শুনানি করে জামিন আদেশ স্থগিত রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বিপাকে পড়ে তড়িঘড়ি নিজের আদেশ প্রত্যাহার করেন জামায়াত স্যাঙাত বিচারপতি রেজাউল। জানিয়ে দেন, রবিবার (৪ মে) জামিন স্থগিতের আর্জি শুনবেন। যদিও রবিবার চিন্ময় প্রভুর জামিন স্থগিত নিয়ে শুনানি হনি। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এম. আই. ফারুকীর মৃত্যুর কারণে সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
যদি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন বহাল থাকে তাহলে চিন্ময় প্রভুকে জেল থেকে ছাড়তে হবে বুঝতে পেরেই নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়েছিল মোল্লা ইউনূস সরকার। গতকাল রবিবারই নতুন করে চার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার (শ্যেন অ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন জানায় পুলিশ। আজ সোমবার (৬ মে) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন ভার্চুয়াল শুনানি শেষে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন। নিরাপত্তার কারণে এদিন আদালতে চিন্ময় প্রভুকে হাজির করা হয়নি।