আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা: শেষ পর্যন্ত মিলল জামিন। বাংলাদেশে গ্রেফতার হওয়া ইস্কনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জামিনে মুক্তি পেলেন। বুধবার বাংলাদেশ উচ্চ আদালতে বিচারপতি আতোয়ার রহমান খান ও আলী রেজারের বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করে বলে সূত্রের খবর।
বাংলাদেশের দ্রোহকালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে উঠেছিল জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ। ফলে দেশদ্রোহিতার আঙুল ওঠে তাঁর দিকে। জানা যায়, ২৫শে অক্টোবর সমাবেশে করছিল বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ। সেই সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। অভিযোগ, কিছু যুবক চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে ইসকনের গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছিল। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ ইস্কনের গেরুয়া পতাকা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার উপরে ছিল। আর এ তো রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল! তাই গ্রেফতার করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণকে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান।
২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করে ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এরপর তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। যারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁদের উপর চলেছে অকথ্য লাঠিচার্জ। চিন্ময়ের হয়ে লড়াই করার জন্য কোনও আইনজীবী পাওয়া যায়নি। যারাই লড়াই করবেন বলেছেন তাঁদের আদালতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সংঘর্ষ এমন জায়গায় পৌঁছায় যে এক আইনজীবী খুন পর্যন্ত হন। এরপর ২১ জন হিন্দুকে গ্রেফতার করা হয়।
অবশেষে এল স্বস্তি। সূত্রের খবর, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। চূড়ান্ত শুনানি ছিল বুধবার। আতোয়ার রহমান খান ও আলী রেজার বেঞ্চ দীর্ঘ ৬ মাস পর চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীকে জামিন দিলেন। হাইকোর্টে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুল দিয়ে জানতেও চাওয়া হয় চিন্ময়কে কেন জামিন দেওয়া হবে না। ২৩ এপ্রিল হাইকোর্ট শুনানির জন্য ৩০ এপ্রিল ধার্য করে। সেইদিনই কার্যত মিলল জামিন। তবে জামিন পেলেও সংশয় এখনও কাটেনি। আগামী তিনদিন বাংলাদেশে ছুটি থাকায় বন্ধ থাকছে আদালত। তারপর ইউনূস সরকার চাইলেই ফের একবার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হতে পারে।
এর আগে ইস্কনকে নিষিদ্ধ করতে তৎপর হয়েছিল বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা। তাদের দাবি ছিল ইস্কন ধ্বঙ্গস করতে হবে। ঘাসিনা সরকারের উচ্ছেদের সময়ে একাধিক ছাত্র নেতা ভাষণ দেন ইস্কন হিন্দুদের বিরুদ্ধে। ভারত এই বিষয়ে প্রতিবাদ করে জানিউয়েছিল তাঁরা সনাতনধর্মীদের পাশে রয়েছে।