নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: ‘মালিক’ হওয়ার সুবাদে দলের অধিনায়ককে ‘অপমান’ করেছিলেন তথাকথিত শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সেই অপমান মানতে না পেরে এক রাশ অভিমান বুকে নিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টস ছেড়ে দিল্লি ক্যাপিটালসে নাম লিখিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাতে একানা স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতেই সেই অপমানের জবাব দিলেন সুনীল শেট্টির জামাই। ম্যাচ শেষে পুরনো মালিকের সঙ্গে ২ সেকেন্ডের সাক্ষাতে রাহুল বুঝিয়ে দিলেন, গত বারের অপমানের জ্বালা এখনও ভোলেননি তিনি।
টস জিতে এদিন প্রথমে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর পটেল। শুরুটা মন্দ করেননি লখনউয়ের দুই ওপেনার মিচেল মার্শ ও আইডেন মার্করাম। দুজনে দিল্লির বোলারদের আক্রমণ নির্বিষ করে দিয়ে রান মেশিন সচল রাখেন। দশম ওভারে মার্করামকে (৫২) ফিরিয়ে ৮৭ রানের জুটি ভাঙেন দুষ্যন্ত চামিরা। আর তার পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লখনউয়ের টপ অর্ডার। পর পর ফিরে যান নিকোলাস পুরান (৯) , আব্দুল সামাদ (২) ও মিচেল মার্শ (৪৫)। ফলে রান ওঠার গতিও অনেকটা শ্লথ হয়ে যায়। পঞ্চম উইকেটে জুটি বেঁধে আয়ুষ বাদোনি ও ডেভিড মিলার পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালান। শেষ ওভারে বল হাত লখনউকে জোড়া ধাক্কা দেন মুকেশ কুমার। প্রথমে ফেরান বাদোনিকে (৩৬)। শেষ বলে ফিরিয়ে দেন লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থকে। এদিনও শূন্য হাত ফিরেছেন আইপিএলের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়। ডেভিড মিলার ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তোলে লখনউ। দিল্লির হয়ে মুকেশ কুমার ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১৬০ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করেন দিল্লির দুই ওপেনার করুণ নায়ার ও অভিষেক পোড়েল। যদিও বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি নায়ার। ৯ বলে ১৫ রান করে আইডেন মার্করামের বলে ফেরেন। এর পর অভিষেক ও লোকেশ রাহুল দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে অনায়াসেই দলকে একশোর গণ্ডি পার করিয়ে দেন। নিজের অর্ধশতরানের পরেই মার্করামের বলে ফিরে যান পোড়েল (৫১)। যদিও তাতে খুব একটা অসুবিধায় পড়তে হয়নি দিল্লিকে। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে লখনউয়ের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ১৩ বল বাকি থাকতেই হাতে আট উইকেট নিয়ে জয় হাসিল করে দিল্লি। রাহুল ৪২ বলে ৫৭ ও দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল ২০ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। জয়ের সুবাদে প্লেঅফের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন অক্ষররা।