নিজস্ব প্রতিনিধি : ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ রিট পিটিশন দাখিল করলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টে রিট পিটিশন দিয়েছেন তিনি।
ওয়াকফ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধীরা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলায় এই আইন কার্যকর করা হবে না।
সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। এই নিয়ে একগুচ্ছ মামলা ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সব মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মামলা করেছেন মহুয়া। ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ডে এখন অ-মুসলিমরাও থাকতে পারবেন। এই নিয়মের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিরোধীরা।
কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের আনা কালাআইন ওয়াকফ সংশোধনী আইন-র বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির বলেছেন, এই আইন সংবিধানের ১৪,১৫(১),১৯(১)(সি),২১ ও ৩০০(এ) ধারার বিরোধী।
দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল আইনে পরিনত হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ওয়াকফ সংশোধনী আইনের ধারা অনুযায়ী, এতদিন যেকোন ও সম্পত্তিকে ওয়াকফ হিসাবে ঘোষণার অধিকার ছিল ওয়াকফ বোর্ডের হাতেই। অতীতে ওয়াকফ বোর্ডের বিরুদ্ধে বার বার বহু গরিব মুসলিমের সম্পত্তি, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ব্যক্তির সম্পত্তি অধিগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে ওয়াকফ বোর্ডের সেই একচ্ছত্র অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে জেলাশাসক বা সমপদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের হাতে। ১৯৫৪ সালে প্রথম ওয়াকফ আইন পাশ হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে ওয়াকফ আইনে সংশোধনী এনে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। তার পর থেকেই বিজেপির তরফে বার বার প্রশ্ন তোলা হয়েছে ‘বোর্ডের একচ্ছত্র অধিকার’ নিয়ে।