নিজস্ব প্রতিনিধি: রাত পোহালেই রামনবমী। এদিকে সদ্য পাশ হওয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে ক্রোধ জমেছে সংখ্যালঘুদের মননে। ফলে চড়চড়িয়ে বাড়ছে উত্তেজনার পারদ। এর মধ্যেই সম্প্রীতির এক অপূর্ব চিত্র দেখাল মালদা। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাঁধে চড়ে শেষ যাত্রায় গেলেন এক হিন্দু ব্যক্তি।
শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৬২ বছরের বৃদ্ধ বিদ্যাধর ঝাঁ (৬২)–র। এতদিনের সাথীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন স্ত্রী। কিন্তু বাস্তব যে বড় কঠিন। দেহ সৎকারের জন্যও টাকা পয়সার দরকার। সে সব কোথায়! কেই বা নিয়ে যাবে শ্মশানে। ফলে বাড়িতে একমাত্র সদস্য বৃদ্ধা স্ত্রী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তখনই যেন ঈশ্বরের দূত হয়ে এলেন কয়েকজন যুবক।
এ ঘটনা পুরাতন মালদা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলবাড়ি মির্জাপুরের। বিদ্যাধর ঝাঁ ছিলেন পেশায় পূজারি। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সেবাইতের কাজ করতেন। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁরই শেষকৃত্য করার লোক নেই ভেবে স্ত্রী শিখা যেন অকূল পাথারে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশি সেলিম শেখ, আকবর আলি, তৌফিক শেখরা।
স্থানীয় যুবক সেলিম শেখ, টোফি শেখ বলেন, “ছোট থেকেই আমরা বিদ্যাধর জেঠুকে দেখে আসছি। উনাদের পরিবারটা অত্যন্ত দুঃস্থ , কিন্তু খুব ভালো। মনের মানুষ ছিলেন বিদ্যাধরবাবু। তাঁর ছেলেরা ভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন । মেয়েদেরও বাইরে রাজ্যে বিয়ে হয়েছে। এদিন ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি পরিবারের ছিল না। কারণ, ওই পরিবারে শুধুমাত্র বৃদ্ধা ছিলেন । এরপরই বিষয়টি জানতে পেরে আমরা এগিয়ে এসেছি । যতটা পেরেছি সহযোগিতা করে ওই বৃদ্ধের দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।”
সেলিমরাই অচেতন অবস্থায় বিদ্যাধরকে স্থানীয় মৌলপুর সরকারি গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধর। এর পর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে সৎকারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে মুসলিম প্রতিবেশীরাই তাঁর সৎকারের ব্যবস্থা করে। সেলিম, আকবর, তৌফিকদের উদ্যোগেই গাড়ি ভাড়া করে বিদ্যাধর ঝাঁয়ের দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁরাই করেন শেষকৃত্য।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল দলের কাউন্সিলর শ্যামমন্ডল জানিয়েছেন, এলাকায় সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট রয়েছে, তা এই দিনের এই ঘটনায় প্রমাণ করে দিয়েছে। একজন ব্রাহ্মণ পুরোহিতকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকার্য করার ব্যবস্থা করেছেন এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকেরা এর থেকে আর ভালো কি হতে পারে। এদিনের এই উদ্যোগকেও আমি সাধুবাদ জানিয়েছি। মৃত বৃদ্ধের দুই ছেলে ভিন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে বিহার ও অসমে। ফলে মৃত্যুর খবর পেলেও তাঁরা বাড়ি পৌঁছতে পারেননি।