আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজা ভূখণ্ডে অতর্কিতে বিমান হামলা চালাল ইজরায়েল। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোরে চালানো ওই বিমান হামলায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ২০৫ জন মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশো। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনুমান প্যালেস্তাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকদের। ইজরায়েলের অতর্কিতে বিমান হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে প্যালেস্তানিয় মুক্তিকামী সংগঠন ‘হামাস’।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চাপে প্যালেস্তানিয় মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিল ইজরায়েল। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল যুদ্ধবিরতি। পাশাপাশি যুযুধান দুই শিবিরই তাদের কব্জা থাকায় প্রতিপক্ষদের পণবন্দিদের মুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতেই বদলে যায় চিত্রটি। সোজা হোয়াইট হাউসে ছুটে যান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ওই সাক্ষাতের পরেই ফের গাজায় হামলার হুমকি দিয়ে চলছিল ইজরায়েলের জল্লাদ বাহিনী।
কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবুজসঙ্কেত পেয়ে এদিন ভোরেই গাজা উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইজরায়েলি বাহিনী। অতর্কিত হামলায় হকচকিয়ে যান প্যালেস্তানিয়রা। বোমার আঘাতে গুঁড়িয়ে যায একের পর এক ভবন। রক্তে ভেসে যায় গাজা গাজার উত্তরাঞ্চল, গাজা সিটি, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস, রাফাসহ বিস্তির্ণ এলাকা। প্যালেস্তাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র খলিল আল দেকরান জানিয়েছেন, ইজরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এদিন অতর্কিতে হামলা চালিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার পরে ইজরায়েলি সেনার তরফ থেকে হুঙ্কার ছাড়া হয়েছে, তারা বেশ কয়েকটি জায়গাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ পর্যন্ত এ হামলা অব্যাহত থাকবে এবং তা শুধু বিমান হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।