নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চার মাসের শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারিই উত্তরপ্রদেশের বান্দার বাসিন্দা শাহজাদি খানের ফাঁসি কার্যকর করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রশাসন। আজ সোমবার (৩ মার্চ) দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শচিন দত্তের এজলাসে ওই মন খারাপ করার খবর জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রকের তরফে দেশটিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইন মেনেই শাহজাদি খানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ওই তথ্য জানানোর পরেই গোটা এজলাসে পিন পতনের নিস্তব্ধতা নেমে আসে।
উত্তরপ্রদেশের বান্দার বাসিন্দা শাহজাদি খানকে তিন বছর আগে ২০২১ সালে মানবপাচার চক্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পাচার করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। আবু ধাবিতে গিয়ে এক দম্পতির চার মাসের সন্তানকে দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। আচমকাই শিশুটির মৃত্যু হয়। ওই দম্পতি শাহজাদির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেন। এর পরে তদন্ত করে আবু ধাবি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে দেশটির আদালত শাহজাদিকে ফাঁসির সাজা শোনায়। মেয়েকে বাঁচানোর আর্জি জানিয়ে মোদি সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শাহজাদির বাবা সাবির খান। বিদেশ মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে কাতর আর্জি জানিয়েছিলেন মেয়েকে বাঁচানোর।
কিন্তু সেই আর্জিতে কেন্দ্রের সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাবির খান। আর্জিতে মেয়ে কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানতে চেয়েছিলেন। এদিন বিচারপতি শচিন দত্তের এজলাসে ওই মামলার শুনানি ছিল। আর সেই শুনানিতেই অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান, শাহজাদি খান আর বেঁচে নেই। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার।