নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধানসভায় চলছে বাজেট অধিবেশন। সোমবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই বক্তব্য রেখেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আর তখনই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে তিনি সরব হন। তাতে কার্যত মুখ পুড়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। আগামিকাল বুধবার অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের স্বাধীন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট হতে চলেছে এটাই। এই আবহে আচমকাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এসে একদিন বক্তব্য রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়।
ইতিমধ্যেই উপরাষ্ট্রপতির ওই আবদারের কথা রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন ধনকড়ের সচিব সুনীল গুপ্তা। যিনি আবার পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারেরই আইএস। তবে আবদার জানালেও আদৌ উপরাষ্ট্রপতিকে বিধানসভায় এসে জ্ঞানগর্ভ ভাষণ রাখার অনুমতি বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দেবেন কিনা, তা এখনও জানা যায়নি। অধ্যক্ষ কী করেন, সেইদিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
২০১৯ সালের অগস্ট থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপালের দায়িত্বে ছিলেন জগদীপ ধনখড়। আর সেই সময় রাজভবনের মালিকের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিকবার সঙ্ঘাত হয়েছে। ছলছুতোয় রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে অস্বস্তি ফেলার অভিযোগ ছিল কেন্দ্রের প্রতিনিধি ধনকড়ের বিরুদ্ধে। একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার সাংবিধানিক প্রধানকে ‘জমিদার’ হিসাবে খোঁচাও দিয়েছেন। ধনকড়ের বিরুদ্ধে ‘বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ’ করার অভিযোগ তুলেছিল শাসকদল । শুধু তাই নয় ধনকড়কে ‘পদ্মপাল’ বলে আক্রমণ করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-কুণাল ঘোষরা। অর্থাৎ ধনকড়ের সঙ্গে বাংলার শাসক দলের সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। আর সেই কারণে বিধানসভা ভোটের আগে উপরাষ্ট্রতির বিধানসভায় এসে ভাষণ দেওয়ার পিছনে অন্য অভিন্ধি রয়েছে বলে মনে করছেন ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতারা।