নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজাকার বাহিনীর নেতা তথা পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য মোল্লা মহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশ যে তালিবানি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, ফের তার প্রমাণ মিলল। এবার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জামিন দেওয়া নিয়ে তালিবানি ফতোয়া জারি করলেন মোল্লা ইউনূসের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজারবাগে বিচার বিভাগের এক কর্মশালায় তিনি বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ভুল করেও জামিন দেবেন না। যদি জামিন দেন, তাহলে করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। চাকরি থেকে তো বরখাস্ত হবেনই, এমনকি আমরা যতদিন ক্ষমতায় থাকব, ততদিন জেলে পচে মরতে হবে।’ আইন উপদেষ্টার মুখে ওই কথা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন বিচারক ও আইনজীবীরা।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে মোল্লা ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসেই বিচারব্যবস্থার সম্পূর্ণ জামায়াতি ও পাকিস্তানিকরণ করেছেন। প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের বিচারক ও বিচারপতির পদে ইস্তফা দেওয়াতে বাধ্য করেছে। তাদের জায়গায় বেছে-বেছে নিয়োগ করা হয়েছে জামায়াত ইসলামি-সহ পাকিস্তানি এজেন্ট রাজনৈতিক দলের আইনজীবীদের। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ‘রাজাকার’ বাহিনীর শীর্ষ নেতা সৈয়দ ইশতিয়াক আমেদের ছেলে সৈয়দ রেফাত আমেদকে। হাইকোর্টে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জামায়াতপন্থী ২১ জনকে। এমনকি দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াত ইসলামির মজলিশ সুরার দুই সদস্য আসাদুজ্জামান ও তাজুল ইসলামকে। জেলা ও নিম্ম আদালতগুলিতেও জামায়াত ও পাকিস্তানিপন্থী পাঁচ শতাধিক আইনজীবীকে বিচারক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই বিচারকদের দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সবক শেখানোর পথ বেছে নিয়েছে।
৫ অগস্টের পর মিথ্যা মামলায় শেখ হাসিনার একাধিক মন্ত্রী, প্রাক্তন সাংসদ সহ আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ নিধন কর্মসূচি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। গত তিন দিনে দেশজুড়ে মিথ্যা অভিযোগে গণহারে গ্রেফতার করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের। ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। ওই নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে ঠুনকো মামলা সাজানো হয়েছে, তাতে জামিন হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ। তাই জামিন আটকাতে সরাসরি আসরে নেমেছেন আইএসআই এজেন্ট হিসাবে বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত মোল্লা ইউনূসের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
এদিন বিচারকদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন দেওয়ার মতো ঝুঁকি নেবেন না। ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা পাকিস্তানপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের জেলে পুরেছিলেন। তার বদলা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া সবাইকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। আইনে কী রয়েছে, তা ভুলে যান। কাউকে জামিন দেওয়া যাবে না, এটা ভাল করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন।’ সভায় উপস্থিত আর এক পাকিস্তানি এজেন্ট তথা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্টে যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের জামিন দেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগকে নিশ্ছিহ্ন করতে সরকার ও বিচারবিভাগকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা যাতে জামিন পেয়ে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত না করত্ব পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকে।’