নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের ব্যস্ত মন্ত্রী তিনি। সেই সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সহচরও। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য দম ফেলার ফুসরৎটুকু পাওয়া ভীষণ মুশকিল। তবু তার মধ্যেও গানের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন ইন্দ্রনীল সেন। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরস্বতী পুজোর দিনেই ইউটিউবে নিজের কণ্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘তোমায় গান শোনাব’ রিলিজ করেছেন মন্ত্রী মশায়। আর তাঁর দরাজ কণ্ঠের গান শুনে মুগ্ধ রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভক্তরা।
নব্বইয়ের দশকে রবীন্দ্র সঙ্গীতের মাধ্যমেই পেশাদার শিল্পী হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ইন্দ্রনীল সেনের। রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি পুরনো দিনের আধুনিক গান গেয়েও শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। পুরানো দিনের আধুনিক বাংলা গান নিয়ে তাঁর ‘দূরের বলাকা’ ঝড় তুলেছিল। ওই অ্যালবামে ইন্দ্রনীল সেনের গাওয়া ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’ কিংবা ‘ওই যে আকাশের গায়ে’ নতুন প্রজন্মকে ফের বাংলা গান শোনার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়েছিল। সেবার প্রতিটি পুজোমণ্ডপে দিনরাত বেজেছিল ‘দূরের বলাকা’র অ্যালবামের গান। তবে আধুনিক গান গেয়ে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছলেও রবীন্দ্র সঙ্গীত গাওয়ার ক্ষেত্রেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
এক সময়ে চুটিয়ে গানের জলসায় হাজির ইদানীং কাজের চাপে কানায় কানায় ভরা অডিটোরিয়ামে আর গান গাওয়া হয়ে ওঠে না রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর। একাধিক দফতর, দলের কাজ— সব সামলে উঠতে উঠতেই দিন ফুরিয়ে যায়। মঞ্চে গান গাইতে না পারা খানিকটা হলেও পীড়া দেয় রাজনেতা-গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই কথাটা অকপটে স্বীকারও করে নিয়েছিলেন। খানিকটা আপশোষ মেশানো কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, মাঝে মাঝে খুব মিস করি ওই দিনগুলো। কিন্তু এখন জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গিয়েছে।’ সঙ্গীতমেলা কিংবা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধ (পড়ুন আবদার) মেনে খালি গলায় গাইতে হয় ফরমায়েশি গান। গানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই ফের নয়া গান নিয়ে শ্রোতাদের কাছে হাজির হলেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।