পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ এমন এক তীর্থ স্থান, যেখানে অহরহ দেখা মেলে নিত্য নতুন অবাক করা সাধুদের। এবার এমন এক সাধু নজরে এসেছেন, যিনি সম্প্রতি রাবড়ি বাবা নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
জানা গিয়েছে, তিনি ভক্তি এবং সেবার এক অনন্য উপায়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি ভগবতী মহাকালীর উপাসক এবং দেবীর কৃপায় ভক্তদের নিজে হাতে রাবড়ি খাওয়ানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। লোকমুখে সমালোচিত তথ্য মারফত, শ্রী মহন্ত দেবগিরি মহারাজ প্রতিদিন প্রায় ১৩০ লিটার দুধ দিয়ে রাবড়ি তৈরি করেন, যা তিনি মহাকুম্ভে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করেন। বাবার মতে, এই রাবড়ি বিতরণ শুধুমাত্র প্রসাদ নয়, বরং তার ভক্তি এবং সেবা কর্মের একটি অংশ। এই কারণেই তাকে ‘রাবড়ি ওয়ালে বাবা’ নামে ডাকা হয়।
মহাকুম্ভে আগত সাধু-সন্তদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব গল্প এবং বিশেষত্ব থাকে এবং রাবড়ি বাবা তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছেন। তার এই সেবা কার্য শুধু ভক্তদের মধ্যে আলোচনার বিষয় নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে তার প্রচুর প্রশংসা হচ্ছে। এমনকী এই রাবড়ি বাবা সমাজের ডায়াবেটিক মানুষদের কথা চিন্তা করে খুব কম পরিমান চিনি দিয়ে রাবড়ি তৈরী করেন। বাবার এই অনন্য পদ্ধতি তার ভক্তি এবং সমাজ সেবার প্রতি গভীর বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। তার এই সেবা কার্য মহাকালী দেবীর প্রতি তার নিবেদনকে তুলে ধরে। মহাকুম্ভের মতো বিশাল আয়োজনে তার এই সেবা শুধু ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে না, এটি মানব সেবার প্রতীকও। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, রাবড়ি ওয়ালে বাবা শুধু মহাকুম্ভের আকর্ষণ নন, তাঁর সেবা এবং ভক্তির অনন্য পদ্ধতি তাঁকে সকলের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে। তাঁর এই কাজ যথেষ্ট অনুপ্রেরণাদায়ক। অগণিত ভক্তবৃন্দ এই কুম্ভ মেলায় তাঁর কাছে এসে আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন ও রাবড়ি খেয়ে আত্মতৃপ্তি ঘটাচ্ছেন।