নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-সহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেওয়ার জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের হঠিয়ে বিচার বিভাগ আর পুলিশ-প্রশাসনে রাজাকারদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই অপচেষ্টা নিয়েই এবার সরব হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সরাসরি মোল্লা ইউনূস ও তার পাকিস্তানপন্থী উপদেষ্টাদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তার পরিণতি ভাল হবে না।’
এদিন রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে শহিদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে বিএনপির তরফে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই আলোচনা সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকেই এখন একাত্তরকে একটু পিছনে রাখার চেষ্টা করছেন। এটা ইতিহাস বিকৃতির আরেক প্রচেষ্টা। এভাবে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মূল ইতিহাস থেকে জাতিকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছেন।’ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ না হলে যে এখনও পাকিস্তানের গোলামি করতে হত, স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি হত না, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের মূল ইতিহাস- এই স্বাধীন বাংলাদেশ আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে কেউ যেন খাটো না করে। ইতিহাস বিকৃতি যেন না ঘটে। গত ১৫ বছর ধরে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। ঠিক তেমনি এখন যাতে ইতিহাস বিকৃত না হয় সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার দৌলতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়া জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর দুই শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমকে খোঁচা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন যে, হাসিনা পালিয়ে গিয়েছেন আর তাতেই কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। অনেকে বলেন- আমাদের এই আন্দোলন চলবে নির্বাচন পর্যন্ত। দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকতা না পাওয়া পর্যন্ত বিএনপিকে কাজ করতে হবে। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি, সেই গণতন্ত্র কথার কথা নয়। এটা একটা কালচার, এটা একটা সংস্কৃতি। আপনি আমি কীভাবে কথা বলব, আমি আমার প্রতিবেশীর সঙ্গে কেমন কথা বলব, আমার রাজনীতির প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলব সেই বিষয়গুলো আমাদের গণতন্ত্রের ভেতর দিয়ে শিখতে হবে। গণতন্ত্র মানে এই নয় যে, আওয়ামী লীগ করলে তাকে গলা কেটে ফেলো আর বিএনপি করলে তার মুণ্ডু ছেদ করো। গণতন্ত্র হচ্ছে পরমত সহিষ্ণুতা। তোমার কথা বলার অধিকার আছে, আমার বিরুদ্ধেও কথা বলার অধিকার আছে আমি সেটাকে রক্ষা করবো, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।’