নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের বিপন্ন হিন্দুদের ‘রক্ষাকর্তা’ তথা ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর জামিন শুনানি এগিয়ে আনার আর্জি বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ফের খারিজ করে দিল চট্টগ্রাম আদালত। ফলে আগামী ২ জানুয়ারিই চিন্ময় প্রভুর জামিন আর্জির শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে চট্টগ্রাম পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষকে।
মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করে মোল্লা ইউনূসের পোষ্যভৃত্য ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। পরের দিন অর্থাৎ ২৬ নভেম্বর তাঁকে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক সাইফুল ইসলাম জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ৩ ডিসেম্বর চিন্ময় প্রভুর জামিন নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আইনজীবীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় জামায়াত ইসলামী-সহ মৌলবাদীরা। এমনকি পুলিশের তরফ থেকেও চট্টগ্রাম আদালতের ৭০ হিন্দু আইনজীবীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ফলে গ্রেফতারির ভয়ে অনেকেই গা ঢাকা দেন। চিন্ময় প্রভুর তরফে কোনও আইনজীবী না উপস্থিত থাকায় জামিন শুনানি এক মাসের জন্য স্থগিত রাখেন বিচারক সাইফুল ইসলাম।
গতকাল বুধবার (১১ ডিসেম্বর) আচমকাই নাটকীয় মোড় নেয় জামিন শুনানি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আদালতে চিন্ময় প্রভুর হয়ে লড়তে হাজির হন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নামে এক বর্ষীয়ান আইনজীবী। আর তাঁকে দেখেই রে-রে করে মারতে যান চট্টগ্রাম আদালতের মুসলিম আইনজীবীরা। বিচারক সাইফুল ইসলামও ভয়ে ওই আইনজীবীর আর্জি নিয়ে শুনানি করার সাহস দেখাননি। যদিও হাল ছাড়েননি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বৃহস্পতিবার ফের চিন্ময় প্রভুর হয়ে জামিন শুনানি এগিয়ে আনার আর্জি নিয়ে চট্টগ্রাম আদালতের দায়রা বিচারক সাইফুল ইসলামের এজলাসে হাজির হন তিনি। বিচারক তাঁকে জানান, ‘চট্টগ্রাম বারের কোনও আইনজীবীকে চিন্ময় প্রভুর হয়ে ওকালতনামায় সই করতে হবে। তাহলে রবীন্দ্রবাবুর বক্তব্য শুনবেন তিনি।’ কিন্তু চট্টগ্রাম বারের কোনও সদস্য চিন্ময় প্রভুর হয়ে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে চাননি। ফলে রবীন্দ্রনাথ বাবুর সওয়াল শুনতে রাজি হননি বিচারক।
কেন বাংলাদেশের একজন স্বীকৃত আইনজীবী হওয়া সত্বেও ঢাকা বারের প্রবীণ সদস্য রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ওকালতনামাকে গ্রাহ্য করলেন না চট্টগ্রামের দায়রা বিচারক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখানে রীতি হচ্ছে, দেশের যে কোনও বারের একজন আইনজীবী আমাদের বারের একজন আইনজীবীর উপস্থিতিতে ও তার ওকালতনামা দিয়ে সংযুক্ত হয়ে মুভ করতে পারেন। কিন্তু চিন্ময় প্রভুর হয়ে লড়তে চাওয়া রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কারও ওকালতনামা দিতে পারেননি।’