নিজস্ব প্রতিনিধি: কালীক্ষেত্র কলকাতার কোণায় কোণায় লুকিয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস। তার সাথেই এখানে অলি-গলিতে ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন থেকে প্রাচীনতর ঐতিহ্যে ভরা শিবমন্দির। সম্প্রতি ঠিক এমনই বেহালায় আড়াইশো বছরের পুরোনা চারচালা একটি শিবমন্দিরকে হেরিটেজ তকমা দিল কলকাতা পুরসভা। জানা গেছে, বেহালা ১৪ নম্বর বাস স্ট্যান্ডের বিপরীতের আর্য সমিতির গলিতে আড়াইশো বছরের প্রাচীন এই শিবমন্দিরকেই বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার তরফে চারচালা শিবমন্দিরে ঐতিহ্যের স্মারকফলক লাগানো হয়েছে।
পুরসভার তরফে জানা গেছে এই মন্দিরকে ‘গ্রেড ওয়ান হেরিটেজ’ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তকমা পাওয়ায় খুশিতে মাতোয়ারা এলাকাবাসী ও মন্দির পরিচালনা সমিতির সদস্যরা। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই শিবলিঙ্গটি প্রায় ২৫০ বছর পুরনো। জানা যায়, মোহিতমোহন হালদার ও ক্ষেত্রপদ হালদারের পরিবার উত্তরাধিকার সূত্রে মন্দিরের দেখাশোনা করছেন। তবে এক সময়ে এই মন্দিরে পুজো করতেন অভিনেতা তথা চণ্ডীপুরের তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর ঠাকুরদা সুশীল চক্রবর্তী।
বর্তমানে মন্দিরের পাশ্ববর্তী এলাকায় একটি দেবদারু ফটক ক্লাবের খেলার মাঠ রয়েছে, জনশ্রুতি আছে, সেখানেই আনুমানিক ৩০০ বছর আগে একটি পুকুর ছিল। সেই পুকুর থেকেই ওই শিবলিঙ্গটি পাওয়া যায় বলে লোকেদের বিশ্বাস। ওই পুকুরটি ছিল এলাকার সম্পন্ন হালদার পরিবারের। সেই শিবলিঙ্গটি তুলে আনার পর পুকুরের পাশে ছোট মন্দির তৈরি করেই ওই শিবলিঙ্গের পুজো অর্চনা শুরু হয়। কিন্তু কালক্রমে মন্দিরটি ভগ্নদশায় পরিণত হলে তা নজরে আসে হালদার পরিবারের। এরপর পাঁচের দশকে নতুন করে মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় হালদার পরিবার। লোকশ্রুতি আছে, ৬০-এর দশকে হালদার পরিবারের সদস্য অলোক হালদারদের তত্ত্ববধানে এই নির্মাণকারী সংস্থাকে দিয়ে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়। সেই থেকেই ওই মন্দিরটি এলাকাবাসীর কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম উপাসনা স্থল। প্রতি শিবরাত্রি ও নীলষষ্ঠীতে এই মন্দিরে অসংখ্য ভক্তের ভিড় হয়।