নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিধানসভার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরে ৯৬ ঘন্টা অতিবাহিত হতে চলল। তবুও বুধবার (২৭ নভেম্বর) পর্যন্ত স্পষ্ট নয় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কে বসবেন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের পদ নিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর ওই স্নায়ুযুদ্ধে কোনও পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হঠতে রাজি নয়। উল্টে দুই শিবিরের নেতারাই লাগাতার বিবৃতি দিয়ে চলেছেন। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারির জন্য রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে আর্জি জানিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জটিলতা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে জরুরি তলব করা হয়েছে বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী তথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম দাবিদার দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে। বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানাবেন তিনি।
অন্যদিকে, মহায়ুতি জোটের অন্যতম শরিক শিবসেনার সুপ্রিমো তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নতুন সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ক্ষেত্রে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উদাহরণও দিয়েছেন। যদিও উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নিতে রাজি না হওয়ার কথা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে উপমুখ্যমন্ত্রিত্ব না নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শিন্ডে। এদিন শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় শিরসাত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে একনাথ শিন্ডেকে সামনে রেখেই বিধানসভা ভোটে লড়েছিল মহায়ুতি। তাই জোটের অপ্রত্যাশিত ফলাফলের কৃতিত্ব তাঁর। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী পদে ফের শিন্ডেই সবচেয়ে যোগ্য। যিনি রাজ্যের এক নম্বর পদে আসীন ছিলেন, তাঁকে দ্বিতীয় পদে বসানোর প্রস্তাব অসম্মানজনক। ওই প্রস্তাব মানার প্রশ্নই ওঠে না।