নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে চলেছেন কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের নেতারা। যদিও সেই অভিযোগ বারংবার খণ্ডন করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। তাঁদের দাবি, বৈদ্যুতিন ভোট যন্ত্রে কারচুপি করার প্রশ্নই নেই। অথচ মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের মুখেই এক হ্যাকার এমন দাবি করেছেন, যা শুনে অনেকেরই পায়ের তলার মাটি নড়ে গিয়েছে। বিরোধী শিবির মহা বিকাশ আগাড়ি জোটের এক সাংসদকে সরাসরি ফোন করে এক হ্যাকার প্রস্তাব দিয়েছেন, ’৫৩ কোটি টাকা দিন, ৬৩ বিধানসভা আসনের ইভিএম হ্যাক করে দেব।’ উল্লেখ্য, আগামী ২০ নভেম্বর ২৮৮ আসন বিশিষ্ট মহারাষ্ট্র বিধানসভায় এক দফাতে নির্বাচন হচ্ছে।
সৈয়দ সুজা নামে ওই হ্যাকার দাবি করেছেন, আমেরিকা প্রতিরক্ষা বিভাগে ব্যবহৃত কারিগরি ব্যবহার করেই তিনি ইভিএম হ্যাক করবেন। নিজের দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ওই হ্যাকার দাবি করেছেন, তিনি আমেরিকা প্রতিরক্ষা বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। শুধু তাই নয়, মহারাষ্ট্রে যে ২৮৮ বিধানসভা আসনে ভোট হচ্ছে, তার মধ্যে ২৮১ আসনের ইভিএমে কারচুপি করার মতো যান্ত্রিক উপায় তার কব্জায় বলেও দাবি করেছেন সুজা। তবে ইভিএম হ্যাক করার জন্য ভিভিপ্যাটের বিস্তারিত তাঁকে পাঠাতে হবে বলে জানিয়েছেন। ৬৩ বিধানসভা আসনের ইভিএম হ্যাক করে ফল উল্টে দেওয়ার পারিশ্রমিক হিসাবে ৬০ লক্ষ ৭২ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করেছেন সুজা। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য দাঁড়ায় ৫৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে পুরো টাকাটাই ডলারে দিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, ভোটে জেতার জন্য মহা বিকাশ আগাড়ি জোটের একাধিক নেতাকে ইভিএম হ্যাক করার টোপ দিয়েছেন সুজা। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে ভারতীয় সাংবাদিক সঙ্ঘের এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সুজা দাবি করেছিলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতে বৈদ্যুতিন ভোট যন্ত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা ইলেকট্রনিক করপোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের (ইসিআইএল) সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ২০১৪ সালে যে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়েছে তা তৈরিতে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন।