নিজস্ব প্রতিনিধি: বরুণ চক্রবর্তীর ঘূর্ণিজালে পড়ে হারতে বসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু প্রোটিয়াদের পরিত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন তইস্তান স্টাবস ও গেরাল্ড কোয়েৎজে। দু’’নের বুক চেতানো লড়াইয়ে ভর করে দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ বল বাকি থাকতেই ভারতের বিরুদ্ধে ৩ উইকেট হাতে নিয়ে জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে চার ম্যাচের সিরিজে ফল দাঁড়াল ১-১। বেচারা বরুণ চক্রবর্তী। ৪ ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েও মহানায়ক হয়ে ওঠা হল না।
সেন্ট জর্জেস পার্কে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন সূর্যকুমার যাদবরা। মূলত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটিং লাইন আপ। শেষ পর্যন্ত হার্দিক পাণ্ড্যর অপরাজিত ৩৯ রানের সুবাদে ছয় উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তোলে ভারত। জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য ছিল ১২৫ রানের। ওই অল্প পুঁজির রান তাড়া করতে নেমে চালিয়ে খেলতে গিয়ে দলকে চাপে ফেলে দেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। তৃতীয় ওভারে আর্শদীপ সিংহের বলে ছয মারতে গিয়ে রিঙ্কু সিংহের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রায়ান রিকেলটন (১৩)।খানিক বাদে বরুণ চক্রবর্তীর বলে চালিয়ে খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক আইডেন মার্করাম (৩)। প্রোটিয়া ওপেনার রেজা হেন্ড্রিক্সও বরুণের ঘুর্ণিতে পর্যূদস্ত হন রেজা হেন্ড্রিক্স। ব্যক্তিগত ২৪ রানে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
এর পরে শুরু হয় বরুণের বল হাতে ভেল্কি। পর পর ফিরিয়ে দেন মার্কো জানসেন (৭), হাইনরিখ ক্লাসেন (২) ও ডেভিড মিলারকে (০)। স্কোর বোর্ডে দুই রান যোগ হতে না হতেই ব্যাটিংয়ের তিন স্তম্ভকে হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের প্রথম সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা সামলাতে একা কুম্ভ হয়ে ওঠার চেষ্টা চালান ত্রিস্তান স্টাবস। ১৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৮৪। শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৪১ রানের। অ্যান্ডিলে সিমলানেকে (৭) ফিরিয়ে ফের ধাক্কা দেন রবি বিষ্ণোই। ১৭ ওভারে ১০০ রানের গণ্ডি পেরোয় দক্ষিণ আফ্রিকা। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা কোয়েৎজে মারমুখী মেজাজে ব্যাট করে ভারতের মুখ থেকে জয়ের গ্রাস কেড়ে নেন। শেষ পর্যন্ত এক ওভার বাকি থাকতেই হাতে তিন উইকেট নিয়ে জয় হাসিল করেন আইডেন মার্করামরা। ত্রিস্তান স্টাবস ৪১ বলে ৪৭ ও কোয়েৎজে ৯ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন।