নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগেই গগনচুম্বী হয়েছে। এবার ব্যাঙ্কগুলিতেও নগদ টাকার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নিজের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের। শুধু যে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে তাই নয়, ব্যাঙ্কগুলি কপর্দকহীন হয়ে পড়ায় আরটিজিএস এবং বিএফটিএনের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার মুখে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। সেই আতঙ্ক আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে বুধবার সন্ধেয় বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের তরফে গ্রাহকদের প্রয়োজন ছাড়া টাকা না তোলার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। আর ওই নির্দেশে কার্যত বিনা মেঘেই বজ্রপাত দেখছেন গ্রাহকরা। তাদের আশঙ্কা, কষ্ট করে সঞ্চয় করা সব অর্থ হাপিশ হয়ে যাবে।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। ক্ষমতায় বসেই নির্বিচারে লুঠপাট চালাতে ব্যাঙ্কগুলির পরিচালনা পর্ষদে ইসলামি জিহাদি ও পাকিস্তান প্রেমীদের বসাতে শুরু করে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আর তার পরেই ভেঙে পড়ে গোটা পরিচালন ব্যবস্থা। পূর্বতন পরিচালকরা বরখাস্ত হওয়ায় প্রমাদ গোনেন গ্রাহকরা। ব্যাঙ্কে জমানো টাকা তোলার হিড়িক পড়ে যায়।
গত সাতদিন ধরে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ইসলামী ব্যাঙ্ক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাঙ্ক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাঙ্ক, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক, ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ইউসিবি, এক্সিম ব্যাঙ্ক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাঙ্ক কার্যত নগদ শূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালি, সোনালী ও উত্তরা ব্যাঙ্কেরও একই হাল। নিজের জমানো টাকা তুলতে গ্রাহকদের চটির শুকতলা ক্ষয়ে যাচ্ছে। গত ৩০ অক্টোবর সিলেটের ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের শিবগঞ্জ শাখায় টাকা তুলতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন গ্রাহকরা। দেশের আরও একাধিক শাখায় একই ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আর ওই খবর জানাজানি হতেই জমানো টাকা তুলে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। ব্যাঙ্কগুলিতে নগদ অর্থের ঘাটতি সামাল দিতে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের তরফে গ্রাহকদের প্রয়োজন ছাড়া টাকা না তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন নির্দেশিকা নিয়ে সাফাই দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা গ্রাহকদের খানিকটা কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘একযোগে অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে গেলে পৃথিবীর কোনও ব্যাঙ্কই টিকবে না।’