আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন নেতানিয়াহু। তাঁকে দেখেই দর্শক চেঁচিয়ে উঠল ‘ধিক্কার’ বলে। বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে খানিকটা থতমত খেয়ে বসেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত বক্তব্য থামাতে বাধ্য হলেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৭ অক্টোবর)হামাসের হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে ইজরায়েলের জেরুজালেমে এক স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন নেতানিয়াহু। হঠাৎ করে নেতানিয়াহুকে দেখে রব উঠল ‘আপনাকে ধিক্কার’….। তাঁর বক্তব্যের মাঝখানে এক মিনিটের বেশি সময় ধরে দর্শকেরা হট্টগোল করেন। উপস্থিত জনতারা চিৎকার শুরু করলে নেতানিয়াহু পোডিয়ামে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের একজন বারবার চিৎকার করে বলেন, ‘আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।’ ইজরায়েলি বিক্ষোভকারীদের ধিক্কারের মুখে অবশেষে বক্তব্য থামাতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু।
এই স্মরণ অনুষ্ঠানের শুরুতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বক্তৃতার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করে নি নেতানিয়াহু সরকার। কেননা তাঁরা আশঙ্কা করছিল নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ইজরায়েল সরকারের সমালোচনা করতে পারেন। পরিণতি ভাল হবে না দেখে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য রাখতে দেন নি। তবে অনুষ্ঠানস্থলে বিক্ষোভের মুখে পড়লে স্বজনদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়।
এক বছর পার হয়ে গিয়েছে এখনও পর্যন্ত গাজায় হত্যাকান্ড বন্ধ রাখে নি নেতানিয়াহু সরকার। বন্দি মুক্তির বিনিময়ে বারবার হামাস সংগঠন চেয়েছে পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ হোক। কিন্তু তাতে পাত্তা দেন নি নেতানিয়াহু। বরং যুদ্ধ বিরতি নিয়ে কোন অনিহা দেখান নি। মধ্যস্থাকারী দেশগুলোকে দিয়ে বারবার চাপ সৃষ্টি করে চলেছে হামাস, যাতে গাজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ হয়। এই নিয়ে ইজরায়েলের অন্দরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে নেতানিয়াহুর উপরে। তাঁদের দাবি এই সরকারের হাতে রক্ত লেগে আছে। তাই ইজারায়েলে নতুন সরকার গঠন করতে হবে।
এদিকে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে একপ্রকার ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু ও তাঁর মন্ত্রীসভা। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন। ওই সময় ২০০ জনের বেশি মানুষকে বন্দি করে নিয়ে যায়, করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০০ জন এখনো গাজায় আছেন।গাজায় থেকে যাওয়া বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নেতানিয়াহুর প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে স্বজনহারা পরিবারগুলোর কাছে ক্রমশ ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে নেতানিয়াহু।