নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘ও নদী রে, তুই ভাঙলি আমার ঘর,, তোর কিনারে থাকতাম তুই করলি আমায় পর…..’ জনপ্রিয় এই বাংলাদেশি গজলের লাইনগুলি যেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের জন্য অক্ষরে অক্ষরে প্রযোজ্য। নদী ভাঙন আজও সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। গত দু’দিনের টানা বৃষ্টির জেরে ফের নদীর সেই ভয়াল রূপ দেখল মুর্শিদাবাদ(Murshidabad)। গতকাল, শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে নতুন করে নদী ভাঙনকে(Riverbank Erosion) কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়ায়। জানা গিয়েছে, বসতি এলাকার বেশ কয়েক মিটার জমি গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে। একটানা বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে গঙ্গা নদী। এর কারণে তাসের ঘরের মতো খসে পড়ছে পাড়ের মাটি। নদীর একেবারে ধারে খাদের পাশে ঝুলছে একাধিক পাকা বাড়ি। আজ, শনিবার ভোর থেকে বেশ কিছুটা চাষের জমি ও দশটি লিচু গাছ জলে তলিয়ে গিয়েছে। এছাড়াও নদীর গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে এলাকার টিউবওয়েল ও শৌচালয়।
আরও পড়ুনঃ কৃষ্ণনগরে তরুণীর রহস্যমৃত্যুর জল্পনা বাড়াল নয়া অডিও ক্লিপ
জানা গিয়েছে, গঙ্গা নদীর পাড় ভাঙনের জেরে এক রাতেই প্রায় ১৫০ মিটার জমির সলিল সমাধি হয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, দু’দিনের টানা বৃষ্টির পর হঠাৎ করে গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়। ফলে গ্রামজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মধ্যরাতেই বাড়িঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে পালাতে শুরু করেন বাসিন্দারা। সারারাত কেউ দু চোখের পাতা এক করতে পারেননি। তাঁদের ঘরবাড়িও যে কোনও সময় তলিয়ে যেতে পারে গঙ্গাগর্ভে। নদী ভাঙনের জেরে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুনঃ নয়া ছবিতে নয়া জুটি, প্রথমবার শুভশ্রীর নায়ক হচ্ছেন জিতু কমল
বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন এলাকাবাসীরা। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে এলাকার একাধিক বাড়ি। ২০২০ সালের দিকে গঙ্গা তীরবর্তী ধানঘরা গ্রামে শুরু হয় নদী ভাঙন। তবে গতকাল সেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে বিঘের পর বিঘে জমি। একাধিক লিচু গাছও তলিয়ে গেছে। গঙ্গার ধারে ঝুলে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। এই বিপর্যয়ের শেষ কোথায়! সেই উত্তর খুঁজছেন এলাকাবাসীরা।