নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একেই বলে বিলম্বিত বোধোদয়। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘আল-বদর’, ‘আল-শামস’ ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে পাক সেনাদের সাহায্য করেছিলেন জামায়াত ইসলামীর নেতা ও কর্মীরা। লক্ষ-লক্ষ বাঙালিকে খুন করে রক্তে নিজেদের হাত লাল করেছিল রাজাকার বাহিনী। রেহাই পায়নি হিন্দু-মুসলিম মহিলারাও। গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল কয়েক হাজার মহিলাকে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর বাদে আচমকাই বোধোদয় হয়েছে জামায়াত ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণধর্ষণ-গণহত্যা সহ নানা কুকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ওই ক্ষমা প্রার্থনার জন্য শর্তও চাপিয়েছেন।
এক জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষ মৌলবাদী দল জামায়াত ইসলামীর প্রধান শফিকুর রহমান। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ওই সময়ের আমি সাক্ষী থাকি আর না থাকি, এটা জামায়াতে ইসলামী নয়। যদি সন্দেহাতীতভাবে এ ধরনের কোনও ভুল বা অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমা চাইব জাতির কাছে। আমার কোনও কুণ্ঠা নেই। কিন্তু কোনও গোঁজামিল বা মিথ্যা চাপিয়ে দেওয়া হবে, আমি মিথ্যাকে সত্য বলব, এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যে তাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি তা স্বীকার করে নিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই, জামায়াত ইসলামী ‘এক পাকিস্তানের’ পক্ষে ছিল। সেই সময়ে দলের কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এর জন্য সাংগঠনিকভাবে জামায়াতকে দায়ী করা যাবে না।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলছে , ১৯৭১ সালে রাজাকার, আল বদর, আল শামসের মতো নরঘাতক বাহিনী সংগঠিত করেছিল জামায়াত ইসলামী এবং দলের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। ঐতিহাসিক ওই সব নথির প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলে শফিকুর বলেন, ‘একটা কথা প্রচলিত, ইতিহাস সব সময় বিজয়ীর পক্ষে। পূর্ব পাকিস্তানে তখন যারা ছিল, যারা ভাল মনে করেছে, সরকারের ডাকে সাড়া দিয়েছে। এটাকে দলের দায়বদ্ধতা বলা যাবে না। এটা ব্যক্তির দায়বদ্ধতা। তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা পূর্ব পাকিস্তান জামায়াত ইসলামী যদি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সংগঠন গড়ে তুলেছে এমন প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারে, তাহলে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইব।’