নিজস্ব প্রতিনিধি : দেবী কালী হল দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী। শাক্তমতে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বলা হয় দেবী কালী হলেন স্বয়ং মহাদেবেরই ক্রোধের বহি:প্রকাশ। শিবপুরাণ অনুসারে, মা কালী এবং বীর ভদ্র শিবের ক্রোধ থেকে জন্মগ্রহণ করেন। তেমনই আবার শিবের সহধর্মিণী পার্বতীর ধ্বংসাত্মক রূপ হল দেবী কালী।
সাধারণভাবে দেবী কালীর মূর্তিতে চারটি হাতে খড়্গ, অসুরের ছিন্নমুণ্ড, বর ও অভয়মুদ্রা; গলায় মানুষের মুণ্ড দিয়ে গাঁথা মালা, বিরাট জিভ, কালো গায়ের রং, এলোকেশ দেখা যায় এবং তাঁকে তাঁর স্বামী ভোলানাথের বুকের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু জানেন কী মা কালী নগ্ন কেন ? ‘বসন পরো মা, বসন পরো মা…’ গানে ভক্তের আর্জি সত্ত্বেও দেবী কালী দিগম্বরী। তিনি উলঙ্গিনী। এই সম্পর্কে সনাতন ধর্মে অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। জেনে নিন শাস্ত্র কী বলছে।
আরও পড়ুন : জানেন কী মা কালীর বাহন শেয়াল কেন ? শেয়ালের ছদ্মবেশে প্রাণিটি আসলে কে ?
হিন্দুধর্মের বিশ্বাস মতে আদ্যাশক্তি হল নিরাকার এবং মানুষের কল্পনার অতীত। কিন্তু ভক্তের সুবিধার্থেই তাঁকে মানুষের ইন্দ্রিয়বোধ্য রূপে কল্পনা করা হয়ে থাকে। দেবী কালীর প্রচলিত ও সাধারণের পূজিত মূর্তিটিও তাঁর তেমনই একটি কল্পিত রূপমূর্তি।
বলা হয়, দেবী কালী আদিশক্তি বা আদ্যাশক্তি। তিনি কাল বা সময়ের থেকেও উচ্চতর। কালের সীমানা পার করেছেন যিনি। সেই অনন্তকে কোনও জাগতিক বস্ত্রের আবরণে আবৃত করা যায় না। দেবী তাই নগ্নিকা। আবার কোনও কোনও মতে বলা হয়ে থাকে, কালী হলেন শক্তির প্রতীক। আর শক্তিকে কোনও বসন বা আচ্ছাদনে আবদ্ধ করা যায় না। তাই নগ্নিকা রূপেই কালীর ধারণা গড়ে উঠেছে।
বলা হয়, সৃষ্টি আর ধ্বংসের মাঝে ক্রিয়াশীল যে শক্তি তা সর্ব ব্যাপক এবং কালজয়ী। এই শক্তির জীবন্ত প্রতীক বা রূপ কালীকে আবৃত করার মতন কোনও পরিচ্ছেদ নেই এই জগতে। তাই তিনি দিগম্বরী।’
আরও পড়ুন : ‘ভূত চতুর্দশী’ কী ?এইদিন সত্যিই কি ভূত-প্রেত আসে ?