নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতকে টুকরো করতে চাওয়া খলিস্তানি জঙ্গিদের পাশে নির্লজ্জভাবে দাঁড়িয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। আর ওই অপকর্মের জন্য এবার খোদ দেশেই বিদ্রোহের মুখে পড়লেন ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠন শিখস ফর জাস্টিসের পরম বান্ধব। জঙ্গিদের পাশে দাঁড়িয়ে দিল্লির সঙ্গে পায়ে পা বাঁধিয়ে ঝগড়া করার জন্য এবার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ইস্তফা দাবি করলেন তাঁরই দল লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য শন ক্যাসে। কানাডায় জাতীয় নির্বাচনের আগেই পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, খলিস্তানি জঙ্গিনেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দিল্লির মোদি সরকারের সঙ্গে কানাডা সরকারের ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। চার বছর আগে ২০২০ সালে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার। গত ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারের একটি গুরুদ্বারের সামনে খুন হয়ে যান নিজ্জর। ওই ঘটনার পরেই খলিস্তানি জঙ্গির হত্যাকাণ্ডে ভারতের ‘ভূমিকা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। আর তার পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্কে চিড় ধরে। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর অটোয়ায় নিযুক্ত এক ভারতীয় দূতকে বহিস্কার করেছিল জাস্টিন ট্রুডো সরকার। বদলা হিসেবে পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে কানাডা দূতাবাসের এক শীর্ষ কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি পাঁচ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নিজ্জর খুনে জড়িত সন্দেহে কয়েক জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতকেও গ্রেফতার করে কানাডা পুলিশের ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম (আইএইচআইটি)। গত রবিবার (১৩ অক্টোবর) কানাডা সরকারের তদন্তকারী সংস্থা নিজ্জর হত্যা মামলায় ভারতীয় হাই কমিশনার সঞ্জয়কুমার বর্মাকে ‘স্বার্থ সম্পর্কিত ব্যক্তি’ বলে জানায়। তার পরেই কানাডা সরকারের তরফে বলা হয়, নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে যাঁদের স্বার্থ জড়িত, সেই তালিকায় ভারতীয় হাই কমিশনারও রয়েছেন। যদিও কূটনৈতিক রক্ষাকবচ থাকায় সঞ্জয়কুমার বর্মার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কানাডার তদন্তকারী সংস্থার ওই দাবিকে নস্যাৎ করে এদিন বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কানাডা সরকার নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ পেশ করেনি। ট্রুডোর অভিযোগকে, ‘রাজনৈতিক লাভের জন্য ভারতকে অপমান করার একটি ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার বলেও জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে দিল্লিতে অবস্থিত কানাডা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার সঞ্জয়কুমার ভার্মাকে অকারণে অপদস্থ করা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কানাডার দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশের ঘন্টা খানেকের মধ্যেই কানাডার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় ভার্মাকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন সাউথ ব্লকের কর্তারা।
গত মঙ্গলবার কানাডা ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিবারেল পার্টির সাংসদ শন ক্যাসে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, ‘, ‘গত কয়েক বছরে ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রীত্বের জমানায় কানাডাবাসী যথেষ্টই দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা যা পেয়েছেন তা যথেষ্ট। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ট্রুডোকে আর দেখতে চান না তাঁরা। আমিও স্পষ্ট করে বলছি, প্রধানমন্ত্রীত্ব এবং লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব থেকে ট্রুডো অবিলম্বে সরে দাঁড়ান। কেননা, তাঁর যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে মানুষ যে উদ্বেগ নিয়ে দিন কাটিয়েছে, তা আরও দীর্ঘায়িত হোক, তা কেউ চাইছে না। আমিও চাইছি না। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, মানে মানে কেটে পড়ুন।’
Ruling Liberal party MP Sean Casey calls for resignation of Canada PM Justin Trudeau 🎯
“The message that I’ve been getting loud and clear is that it’s time for Trudeau to go. And I agree”, says Liberal party MP Sean Casey.pic.twitter.com/2g9KHiSjki
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) October 16, 2024