নিজস্ব প্রতিনিধি : ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে, ঘুমোতে যাবার আগে পর্যন্ত প্রযুক্তির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত আমরা। এর মধ্যে অনত্যম হল স্মার্ট ফোন। এটা ছাড়া তো ভাবাই যায় না। অনেকেই আছেন যাঁরা ফোনের নেশায় আসক্ত। ঘুম থেকে উঠে সকালে ফোন হাতে নিয়ে থাকেন। ঘুম ভাঙতেই ফোনের ভেতরে ডুব দেন। আপনি কি জানেন এই অভ্যেস কতটা ভয়ঙ্কর ? স্বাস্থ্যের ক্ষতি তো হবেই, এর সঙ্গে ব্যবহারকারীর সৃজনশীলতা ও সামাজিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। এমনকী একটি ফ্রেশ দিনকেও নষ্ট করে দিতে পারে এই অভ্যেস।
গবেষকরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্কে ডেলটা স্টেট বা বিশ্রামের পর্যায়ে থাকে। আর তাই সকালে থিটা নামের স্বপ্নময় অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে আলফা বা সক্রিয় অবস্থায় ফিরে আসি আমরা। তখন আমরা জেগে থাকলেও মস্তিষ্কে সম্পূর্ণভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্রিয় হয় না। আর তাই ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ফোন ব্যবহার করলে আমাদের মস্তিষ্ক ডেলটা স্টেট থেকে সরাসরি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ অবস্থায় চলে আসে। এতে মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে। নানান চিন্তা ভাবনা তৈরি হয়। ফলে এর থেকে প্রচন্ড মাথা ধরাও শুরু হতে পারে।
শুধু তাই নয় গবেষকরা আরও জানাচ্ছেন, এই দ্রুত পরিবর্তনের ফলে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। সারা দিন মেজাজ খারাপের পাশাপাশি আলস্য এসে গ্রাস করতে পারে। স্বাস্থ্যের উপর যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তেমনই আত্মবিশ্বাসের অভাব হতে পারে। নেতিবাচকতার জন্ম নিতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা ঘুম ভাঙার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর স্মার্টফোন ব্যবহার করা উচিত বলে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সকালে ফোন ব্যবহার করলে ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপের হরমোন হিসেবে পরিচিত কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ফোন ব্যবহারের কারণে বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। আর তা–ই ঘুম ভেঙে গেলেই হাতে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু তাই নয়, ফোন ব্যবহারের সময় নীল আলো নিঃসরণ হয়। ফোনের পর্দা থেকে বেরোনো এই নীল আলো চোখের জন্য খুবই ক্ষতিকর। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬০ ন্যানোমিটার হওয়ায় চোখের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি মানুষের শরীরের স্বাভাবিক ঘুম ও জাগরণ চক্রকে চরম প্রভাবিত করতে পারে।
এছাড়াও এই অভ্যেস মানবদেহের এই চক্র (সার্কাডিয়ান রিদম) সার্কাডিয়ান ছন্দকে ব্যহত করতে পারে। এই ঘড়ি বলে দেয় কখন আমাদের ঘুমাতে হবে, কখন জাগতে হবে। শরীরের তাপমাত্রা, মেলাটোনিন ও কর্টিসলের মতো হরমোন উৎপাদন ও সামগ্রিক সতর্কতাকেও প্রভাবিত করে এই চক্র। নীল আলোর কারণে ঘুমের চক্রের ওপর প্রভাব ফেলে।