আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হারিকেন হেলেনের বিপর্যয় কাটাতে না কাটাতেই আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য ফের আতঙ্কিত। কেননা এবার সেই অঙ্গরাজ্যটিতে আছড়ে পড়েছে আরেক হারিকেন মিলটন। দেশটির ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) বার্তায় বলা হয়েছে, রাডার ডেটা ইঙ্গিত করছে যে হারিকেন মিলটন ফ্লোরিডার পশ্চিম উপকূলে সারাসোটা কাউন্টির সিয়েস্তা কী এলাকার কাছকাছি আছড়ে পড়েছে। এটি চলতি বছর উত্তর আটলান্টিক সহাসাগরে সৃষ্ট ঝড়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। ইতিমধ্যেই ‘বিপর্যয়কর’ ক্যাটাগরিতে ৩ নম্বরে রয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি।
দেশটির ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের জানিয়েছে, হারিকেন মিল্টন ফ্লোরিডার পশ্চিম উপকূলে সারাসোটা কাউন্টির সিয়েস্তা কী এলাকার কাছাকাছি আছড়ে পড়েছে। এরই মধ্যে মিল্টনের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকায় আকস্মিক বন্যা এবং শক্তিশালী ঢেউ আঘাত হানতে পারে।
একইসঙ্গে সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হারিকেন কবলিত বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৯৫ কিলোমিটার। ক্যাটাগরি-৩ আকারের হারিকেনে রূপ নিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়েছে। ফলে যারা এলাকাটিতে এখনও পর্যন্ত রয়েছেন, তাদেঁর সঙ্গে কি ঘটেছে,কতটা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
অন্যদিকে পাওয়ার আউটেজ.ইউএস ট্রাকারের তথ্য মতে, এরই মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে বিদ্যুৎ গোলযোগ। ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে। সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ১২ লক্ষের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ পরিষেবার বাইরে আছেন।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের কেন্দ্রীয় অঞ্চল জুড়ে বেশিরভাগ জাগায় বিদ্যুৎ গোলযোগ দেখা দিয়েছে।এই এলাকাটিতেই হারিকেন মিলটন আছড়ে পড়েছে। তবে টাম্পা ও আশপাশের এলাকায় এই সমস্যা সবচেয়ে গুরুতর আকার ধারণ করেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে বহু মানুষ। ঝুঁকির পর্যায়েও রয়েছে বহু মানুষ।
এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মিলটন প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে এই অঞ্চলে আঘাত হানার সবচেয়ে বিধ্বংসী ঝড় হতে পারে। এর প্রভাবে ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে দেড় ফুট পর্যন্ত বৃষ্টিপাতও হতে পারে। ইতিমধ্যেই ফ্লোরিডার ৫১টি শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।