নিজস্ব প্রতিনিধি, চণ্ডীগড়: ভোট পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে তৃতীয়বার জাঠ প্রভাবিত হরিয়ানায় সরকার গড়ল বিজেপি। শুধু সরকারই গড়ল না, গতবারের চেয়েও ভাল ফল করেছে পদ্ম শিবির। পাঁচ বছর আগে ম্যাজিক ফিগারের আগেই থমকে যেতে হয়েছিল বিজেপিকে। ফলে জোট সরকার গড়ে সরকার চালাতে হয়েছিল। এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। অন্যদিকে স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়েছে কংগ্রেসের। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং কৃষক তথা জাঠদের ক্ষোভকে ইভিএমে প্রতিফলিত করতে পারেনি শতাব্দী প্রাচীন দল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডার গা-জোয়ারি মনোভাবের মূল্য চোকাতে হয়েছে কংগ্রেসকে।
গত মে মাসে লোকসভা ভোটে হরিয়ানায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। দুই দলই ৫টি করে আসনে জিতেছিল। গত ৫ অক্টোবর এক দফাতেই ভোট নেওয়া হয়েছিল রাজধানী দিল্লির লাগোয়া রাজ্যটিতে। ভোটের পরে বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় আভাস দেওয়া হয়েছিল, ১০ বছরের খরা কাটিয়ে জাঠ প্রভাবিত রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে কংগ্রেস। ফলে ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন কংগ্রেসের নেতারা।
মঙ্গলবার সকালে ভোট গণনা শুরু হতেই প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু সময় গড়াতেই দুরন্ত কামব্যাক করে বিজেপি। প্রাথমিক প্রবণতার উল্টোচিত্র ক্রমশই প্রকট হতে থাকে। কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে বিভিন্ন আসনে এগিয়ে যেতে থাকেন বিজেপি প্রার্থীরা। সরকার গড়ার জন্য ৪৬ আসনে জয় প্রয়োজন ছিল। দুপুরেই সেই ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে যায় পদ্ম শিবির। সকালে এগিয়ে যাওয়ার খবরেই উল্লসিত হয়ে রাস্তায় নেমে পটকা, আতশবাজি পোড়াতে থাকেন কংগ্রেস কর্মীরা। এমনকি লাড্ডুও বিলি করতে থাকেন। দল পিছিয়ে পড়ার খবর শুনে হতাশায় ডুবে যান কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। মুখ রক্ষায় ভোট গণনায় শ্লথগতির অভিযোগ এনেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডা। কিন্তু সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ সব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরে দেখা যায়, বিজেপি জিতেছে ৪৮ আসনে। কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৩৭ আসনে। বাকি পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটি ইন্ডিয়ান লোকদলের প্রার্থীরা জিতেছেন। তিনটিতে জয়ী হয়েছেন নির্দলরা। কংগ্রেসের হয়ে জয়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কমনওয়েলথে পদকজয়ী বিনেশ ফোগট, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডা। তবে হেরে গিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি উদয় ভান। হিসার থেকে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়া জিন্দল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান তথা দেশের শীর্ষ মহিলা ধনী সাবিত্রী জিন্দল। বিজেপির জয়ের হ্যাটট্রিকের জন্য মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। জাঠ প্রভাবিত রাজ্যে মূলত অ-জাঠ এবং দলিতদের ভোটেই বাজিমাত করেছে পদ্ম শিবির।