নিজস্ব প্রতিনিধি: পুজোর মুখে জব্বর খবর জোড়াফুলে(TMC)। প্রায় ১৫ মাস তিহাড়বাসের পরে দিল্লি হাইকোর্টে(Delhi High Court) জামিন পেলেন বীরভূম(Birbhum) জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল(Anubrata Mondol) থুড়ি কেষ্ট’র মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল(Sukanya Mondol)। এদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সুকন্যার জামিন মঞ্জুর করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। গত বছর এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED বা Enforcement Directorate’র হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুকন্যা। দিল্লিতে তাঁকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। সুকন্যার জামিন(Bail) নিয়ে আদালতে সওয়াল-জবাব আগেই শেষ হয়েছিল। এত দিন নির্দেশ আসেনি, সেটাই মঙ্গলবার চলে এল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অনুব্রতের জামিনের আর্জি নিয়ে শুনানি রয়েছে আদালতে। দেখার বিষয় তিনি জামিন পান কী পান না! তবে সুকন্যার জামিনের খবরে খুশির হাওয়া বইছে জোড়াফুল শিবিরে।
আরও পড়ুন, TMCP’র ৫ চিকিৎসক পড়ুয়াকে Dis-Collegiate, চুরমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন
গরু ও কয়লা পাচার মামলায় ২০২২ সালের অগস্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI’র হাতে গ্রেফতার হন তৃণমূলের দাপটু নেতা অনুব্রত। বীরভূমে বোলপুর শহরের নীচুপট্টিতে থাকা তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল CBI। কেষ্ট গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন সুকন্যা। পরবর্তীকালে ED দাবি করেছিল, সুকন্যা তাঁদের সঙ্গে তদন্তে এবং জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন না। সুকন্যাও বার বার সেই জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে কখনও কলকাতা হাইকোর্ট কখনও বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও থেকে কোনও রক্ষাকবচ তিনি পাননি। বরঞ্চ আদালতের নিদ্দেশ ছিল তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। আদালত থেকে রক্ষাকবচ না মেলায় সুকন্যা বাধ্য হন ED’র ডাকে সাড়া দিয়ে দিল্লিতে গিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে। আর তার পরে পরেই গ্রেফতার হন তিনি। বাবা অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির ৮ মাসের মধ্যেই সুকন্যা গ্রেফতার হন। দুইজনেরই ঠিকানা হয় তিহাড় জেল।
আরও পড়ুন, বিরোধী পরিসরের দখল নিচ্ছে বামেরা, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে মাঠে নামছে গেরুয়া
সেই সুকন্যা জামিন পেলেন গ্রেফতারির ১৫ মাস পরে। মঙ্গলবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। যে মামলায় কেষ্ট গ্রেফতার হয়েছিলেন, সেই একই মামলাতে সুকন্যাও গ্রেফতার হন। তাই মনে করা হচ্ছে, সুকন্যা জামিন পেলে কেষ্টও খুব দ্রুত জামিন পাবেন। সুকন্যাকে গ্রেফতারির সময় ED জানিয়েছিল, কেষ্ট-কন্যার কাছে বিপুল সম্পত্তি সম্পর্কে তথ্য রয়েছে যা তিনি দিতে চাইছেন না। তিনি বার বার বলছেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তাঁর বাবা এবং হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিই দিতে পারবেন। পরে অবশ্য এই মণীষও গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি রয়েছেন ED হেফাজতেই। ওই কারণেই অনুব্রত এবং সুকন্যাকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেফতারির পর বাবার মতো সুকন্যারও ঠাঁই হয় তিহাড় জেলে। সেখান থেকে বেশ কয়েক বার তিনি জামিনের আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই তা বাতিল করা হয়। এবার অবশু সেই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।