আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় শিশুদের পোলিও টিকা দেওয়ার জন্য সেখানে ৩ দিনের যুদ্ধ বিরতি দিয়েছে ইজরায়েল। এতে খানিকটা আশার আলো দেখেছিল ফিলিস্তিনিরা। কেননা প্রায় এক বছর ধরে গাজায় টানা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল।গত মাসে গাজায় শিশুদের দেহে পোলিওর উপস্থিতি ধরা পড়ার পর তড়িঘড়ি করে টিকাদান কর্মসূচির পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই টিকাদান কমর্সূচি সফল করতে ইজরায়েলি বাহিনী ও হামাস যোদ্ধারা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে লড়াইয়ে বিরতি দিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যেই গাজায় ফের হামলা চালালো ইজরায়েল। এর মধ্যেই গাজায় নতুন করে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে হামাস।
হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার(৫ সেপ্টেম্বর)হামাস জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এরই মধ্যে মেনে নিয়েছে হামাস। প্রস্তাব মেনে নিতে ইজরায়েলকে চাপ দিতে হবে।’
এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, ‘দক্ষিণ গাজার ফিলাডেলফি করিডর থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে না ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর মাধ্যমে তিনি মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে চাইছেন। কোন মতেই যাতে যুদ্ধবিরতি না হয় সেই চেষ্টায় করছেন নেতানিয়াহু।’
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘নেতানিয়াহুর ফাঁদ ও কূটকৌশলের বিরুদ্ধে আমরা সতর্ক করছি। আমাদের জনগণের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাবার জন্য তিনি চুক্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শুধুমাত্র ব্যবহার করছেন।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে বন্দি করে নিয়ে যায় হামাস। ওই হামলায় নিহত হয়েছিল অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন। সেদিন থেকেই গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইজরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার ৬৯১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৮৫ হাজারের কাছাকাছি।
এমতাবস্থায় গাজায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হামাস ও ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সহ কয়েকটি দেশ। বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতির কথা উঠেছে। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হামাস মেনে নিলেও এই নিয়ে অনিহা দেখিয়ে চলেছে নেতানিয়াহু (ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী)। এই নিয়ে ইজরায়েলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। সরকার বিরোধি স্লোগানও উঠেছে ইজরায়েলের মাটিতে।