নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিরতরে চোখ বুজেছেন বহুল প্রশংসিত ‘চোখ’ ছবির পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তী। বহু পুরস্কারে ভূষিত পরিচালকের অকাল প্রয়াণে সাংস্কৃতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ‘চোখ’ স্রষ্টার অকাল প্রয়াণের খবরে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে সমাজ মাধ্যমে তিনি শোক বার্তায় লিখেছেন, ‘প্রয়াত পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর প্রয়াণের সংবাদ জানতে পেরে শোকাহত। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত এবং বিশিষ্ট পুরস্কার লাভ করে । তাঁর মৃত্যু আমাদের চলচ্চিত্র জগতে শূন্যতা সৃষ্টি করবে । প্রয়াত পরিচালকে পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।’
Sad at the demise of eminent Film Director Utpalendu Chakrabarty.
His films were critically acclaimed and received distinguished awards. His demise will create void in our film industry.
My condolences to his family and friends.
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) August 20, 2024
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ভিন্ন ধারার ছবির নির্মাতা হিসাবেই পরিচিত ছিলেন উৎপলেন্দু চক্রবর্তী। আশির দশকে ‘ময়নাতদন্ত’, ‘চোখ’, ‘দেবশিশু’র মতো একাধিক প্রশংসিত ও চর্চিত ছবি পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৮২ সালে তাঁর পরিচালিত ‘চোখ’ ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার জিতেছিল। এছাড়াও উৎপলেন্দুর ঝুলিতে আসে সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার। ‘চোখ’ ছবিটির পোস্টার এঁকে দিয়েছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। গত এপ্রিল মাসে বাড়িতে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল প্রয়াত পরিচালকের। তার পর জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালকের কোমরের অস্থিসন্ধি প্রতিস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ভুগছিলেন প্রস্টেট এবং সিওপিডি-র সমস্যায়। মে মাসেও পরিচালককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বাড়ি ফিরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। উৎপলেন্দুর স্ত্রী পরিচালক শতরূপা সান্যাল। তাঁদের দুই মেয়ে চিত্রাঙ্গদা ও ঋতাভরী চক্রবর্তী। দু’জনেই টলিপাড়ার প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। তবে দীর্ঘ দিন আগে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনে আলাদা থাকতে শুরু করেন শতরূপা। উৎপলেন্দুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোনও যোগাযোগ নেই।
প্রয়াত পরিচালকের দীর্ঘদিনের সহকারী অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এদিন সন্ধ্যা ৫টা বেজে ৫০ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্কের বাড়িতে বসেই চা খেয়েছিলেন। তার পরেই হঠাৎ করে ঝিমিয়ে পড়লেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।’