নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর কাণ্ড এই মুহুর্তে দেশের সব সংবাদমাধ্যমের কাছেই ‘বিক্রয়যোগ্য পণ্য’ হয়ে উঠেছে। আর সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতি মুহুর্তেই ক্ষুব্ধ ও ক্রুব্ধ আমজনতাকে সুড়সুড়ি দিতে একের পর এক ব্রেকিং ও এক্সক্লুসিভ খবরের নামে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে। সংবাদমাধ্যমের মনগড়া খবরের পর্দাফাঁস করলেন খোদ নিগৃহীতা চিকিৎসকের বাবা। এক তথাকথিত সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, মেয়ের খুনের পিছনে হাসপাতালের কয়েক জন ইন্টার্ন ও চিকিৎসকের নামের তালিকা তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন মৃতার বাবা, মা।
কিন্তু শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওই খবরের সত্যতা অস্বীকার করেছেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা। স্পষ্টই জানালেন, কারও নামের তালিকাই তাঁরা গোয়েন্দাদের দেননি। সেই সঙ্গে তিনি ফের দাবি করেছেন, গোটা ঘটনার নেপথ্যে বড় চক্র রয়েছে। ‘ডিপার্টমেন্ট’ জড়িত।’ যদিও ববিচারাধীন বিষয় বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি।
আরজি করের জরুরি বিভাগের চারতলার সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয়েছিল তরুণী চিকিৎসকের দেহ। তবে ওইখানেই মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে এদিন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার তাঁর কথায়, ‘কোথায় খুন করা হয়েছিল, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। হতে পারে, অন্য কোথাও খুন করা হয়েছে। হয়তো তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্যই ওখানে (সেমিনার হলে) নিয়ে আসা হয় পরে।’
ঘটনায় ইতিমধ্যেই সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতার হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ারই যে আসল ‘দোষী’, তা-ও মনে করছেন না মৃতার মা। তিনি বলেন, ‘‘আমার মেয়ে ওই দিন সিঙ্গল রুমে ছিল। এটা ভিতরের কেউ না জানালে ধৃত জানত না। আমার মেয়ের দেহ দেখে কখনওই মনে হয়নি যে, কোনও একা ব্যক্তির পক্ষে ওই কাজ করা সম্ভব। এমনকি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও আমাদের বাড়িতে এসে একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলেছেন।’