নিজস্ব প্রতিনিধি : রবিবার শহীদ দিবস উপলক্ষে ট্রাফিক পুলিশ কর্মী সহ মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৫০০০ পুলিশকর্মী। ধর্মতলা সহ মধ্য কলকাতায় মোতায়েন থাকবেন ৮ জন যুগ্ম কমিশনার, ২৬ জন ডেপুটি কমিশনার ও ৮০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁদের নেতৃত্বে অন্যান্য পদস্থ কর্তা-আধিকারিক-কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন।একুশে জুলাইয়ের সভামঞ্চের আশপাশে ১৮টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এছাড়া থাকবে ৬টি কুইক রেসপন্স টিম। সভামঞ্চ সংলগ্ন চারটি ঘাটে মোতায়েন থাকবে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। মূল মঞ্চের পেছনে থাকছে লালবাজারে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। শহীদ স্মরণ মঞ্চ সহ ধর্মতলার বিভিন্ন পয়েন্টে থাকছে ৩৫ টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।
ড্রোনের মাধ্যমেও বৃষ্টি না হলে নজরদারি চালানো হবে।ধর্মতলা এলাকার প্রায় ২০টি উঁচু বহুতলের ছাদ থেকে নজরদারি চালাবে পুলিশ। মূল মঞ্চের আগে দুটি ব্যারিকেড করা হবে। তিন নম্বর ব্যারিকেডের পর থেকে সভা স্থলে বক্তব্য শুনতে আসা মানুষজন বসার সুযোগ পাবেন।অন্য বছরের তুলনায় এ বছর একুশে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসে বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে। তাই অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হবে। শুক্রবার বিকেলে টিপু সুলতান মসজিদের সামনে সভামঞ্চের প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা জানান পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, “এবছর ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, পার্কিং ম্যানেজমেন্ট, ক্রাউড কন্ট্রোল ও ভিআইপি সিকিউরিটি প্ল্যান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির ওপর অনেকদিন ধরে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কিছু প্ল্যানিং নেওয়া হয়েছে।সেই হিসেবেই কাজ করবে কলকাতা পুলিশ। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃষ্টিতে পার্কিংয়ে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। যে কোনও আপদকালীন ব্যবস্থা রুখতে কলকাতা পুলিশ প্রস্তুত থাকছে। অন্যদিকে, দমকল দফতরের ডিরেক্টর অভিজিৎ পান্ডে জানিয়েছেন, “একুশে জুলাইয়ে ৬টি পয়েন্টে দমকলের ইঞ্জিন থাকবে। ৮টি পয়েন্টে দমকলের মোটরসাইকেল থাকবে। এছাড়া থাকবে মোবাইল কন্ট্রোল রুম ভ্যান। মঞ্চের পিছনে বিশেষ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি দমকল স্টেশনকে সতর্ক করা হয়েছে।” শুক্রবার সন্ধ্যায় সভামঞ্চ পরিদর্শন করেন যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদ, অতিরিক্ত কমিশনার (১) মুরলীধর শর্মা ও অতিরিক্ত কমিশনার (৩) সন্তোষ পান্ডে-সহ অন্য আধিকারিকরা।
রবিবার শহীদ দিবস উপলক্ষে ট্রাফিক পুলিশ কর্মী সহ মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৫০০০ পুলিশকর্মী। ধর্মতলা সহ মধ্য কলকাতায় মোতায়েন থাকবেন ৮ জন যুগ্ম কমিশনার, ২৬ জন ডেপুটি কমিশনার ও ৮০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁদের নেতৃত্বে অন্যান্য পদস্থ কর্তা-আধিকারিক-কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বার্তা শুনতে হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদা স্টেশন, কলকাতা স্টেশন, হাজরা মোড়, শ্যামবাজার ৫ মাথার মোড় ও পার্ক সার্কাস থেকে বড় মিছিল আসবে ধর্মতলায়। স্থানীয় থানার পুলিশ প্রতিটি মিছিলকে এসকর্ট করবে। একুশে জুলাইয়ের সভামঞ্চের আশপাশে ১৮টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এছাড়া থাকবে ৬টি কুইক রেসপন্স টিম। সভামঞ্চ সংলগ্ন চারটি ঘাটে মোতায়েন থাকবে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য শহরজুড়ে ৪৮টি বিশেষ বুথের ব্যবস্থা থাকবে। এর পাশাপাশি, একাধিক জায়গায় থাকবে পুলিশ পিকেট। সভামঞ্চের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে জন্য ধর্মতলা এলাকার প্রায় ২০টি উঁচু বহুতলের ছাদ থেকে নজরদারি চালাবে পুলিশ। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চের আশেপাশে ৪০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
রবিবার এজেসি বোস রোড (হেস্টিংস ক্রসিং থেকে ক্যাথিড্রাল রোড), কুইন্সওয়ে, লাভার্স লেন, ক্যসুরিনা অ্যাভিনিউ এলাকায় কোনও গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। পাশাপাশি, যে সব রাস্তা দিয়ে মিছিল যাবে, সেই রাস্তায় কোনওপ্রকার যানবাহনের পার্কিং করা যাবে না। প্রয়োজন মতো যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ট্রাফিক পুলিশ। ধর্মতলা চত্বরের অনেক আগেই যারা বাসে করে আসবেন তাদের বাস থামিয়ে দেবে পুলিশ বাকিটা হেঁটে সভাস্থলের দিকে এগোতে হবে। উত্তর কলকাতা থেকে যারা আসবেন তাদের বাস মোহাম্মদ আলী পার্ক পর্যন্ত যেতে দেওয়া হবে। যারা দক্ষিণ কলকাতা থেকে আসবেন তাদের বাস রবীন্দ্র সদনের কাছেই রাখতে হবে। যারা ভিআইপি রোড এবং মা ব্রিজ ধরে আসবেন তাদের গাড়িও ময়দান এলাকাতেই রাখতে হবে। হাওড়া থেকে কোন বাস ধর্মতলার দিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পায়ে হেঁটে মিছিল করে আসতে হবে সভা স্থলে।