নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে ফের রক্তে ভিজল ঢাকার রাজপথ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় আন্দোলন দমানোর নামে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপরে নির্বিচারে গুলি চালাল পুলিশ ও র্যাব। আর ওই গুলিতে দুই পড়ুয়া প্রাণ হারিয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ৩০ আন্দোলনকারী। পাশাপাশি বাড্ডা ও সাভারেও পুলিশের গুলিতে দুই আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া মাদারীপুরে পুলিশের তাড়া খেয়ে পালানোর পথে লেকের জলে পড়ে গিয়ে ডুবে মৃত্যু হয়েছে আরও এক পড়ুয়ার। এ নিয়ে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হল।
গত মঙ্গলবার পুলিশ ও ছাত্র লীগের যৌথবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন সংরক্ষণ বিরোধী ছয় আন্দোলনকারী। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন দেশজুড়ে সর্বাত্মক বন্ধের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। ওই কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গোটা দেশ। এদিন সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও র্যাবের বিক্ষোভ শুরু হয়। মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, সাভার, বাড্ডা, উত্তরা-সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে।
সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের হঠাতে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ ও র্যাব। গুলিতে একের পর এক আন্দোলনকারী লুটিয়ে পড়েন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চার জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৪০ জন। বাড্ডাতেও সংঘর্ষের সময়ে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে এক পড়ুয়া মারা যান। সাভারেও পুলিশের গুলিতে এক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক সহযোদ্ধার মৃত্যুর খবরে আরও ফুঁসে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল কার্যালয়-সহ একাধিক জায়গায় অগ্নিসংযোগ করেন।