নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কোটা বিরোধী আন্দোলন ঘিরে অশান্তির আবহেই শুক্রবার রাত থেকে সারা দেশে কার্ফু জারি ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সিদ্ধান্তের ফলে হিংসাত্মক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন শাসকদল আওয়ামী লীগের শেষ নেতৃত্ব। যদিও কার্ফু জারি ও সেনা মোতায়েনকে গুরুত্বই দিতে চাইছেন না কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এদিন রাতেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মঞ্চ ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার চূড়ান্ত দমন-পীড়নের রাস্তায় হাঁটলেও আন্দোলন চলবে। যেভাবে আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত সঙ্ঘাতের রাস্তাকেই বেছে নেওয়ার পথে হেঁটেছে তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বৃহস্পতিবারের পরে শুক্রবারও কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে একাধিক প্রাণ ঝরেছে। এখনও পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কতজন মারা গিয়েছেন তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। তবে বেসরকারি সূত্রের খবর, গত তিনদিনে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কমপক্ষে ১০৫ জনের প্রাণ ঝরেছে। পরিস্থিতি বেলাগাম হওয়ায় এদিন রাতেই সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকেই পরিস্থিতিতে রাশ টানতে দেশজুড়ে কার্ফু জারি ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে শাসকদল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তথা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কার্ফু জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরও সহিংসতা চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জানার পরেই গর্জে উঠেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বযক নাহিদ ইসলাম। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জনগণের ওপর আরও দমন পীড়নের জন্য সরকার সেনা মোতায়েন করছে। কারফিউ জারি হলেও শনিবার পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।’ কারফিউ উপেক্ষা করে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে হুঙ্কার ছেড়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।