নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের ডাকা সর্বাত্মক বন্ধে কার্যত অচল গোটা দেশ। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের প্রধান শহরগুলিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় নেই যানবাহন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাঁরা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তাঁদের পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। পুলিশের নির্বিচারে চালানো গুলিতে জখম হয়েছেন শতাধিক আন্দোলনকারী। গুজব রোখার অছিলায় গোটা দেশেই মোবাইল ও সেলুলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে টেলি যোগাযোগ মন্ত্রক। শুধু ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে ২২১ প্ল্যাটুন বিজিবি।
গত মঙ্গলবার পুলিশ ও ছাত্র লীগের যৌথ গুন্ডাবাহিনীর হাতে ছয় আন্দোলনকারীর নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এদিন সর্বাত্মক বন্ধের ডাক দিয়েছেন সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধও করেন তাঁরা। পথ অবরোধ সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। তাতে দুই পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মিরপুরেও ছাত্রলীগের গুন্ডাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলনকারীদের উপরে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। মাদারীপুরেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। রামপুরা-বাড্ডায় পুলিশ-ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও পোষ্য গুন্ডাদের লেলিয়ে দেওয়ার পরে আন্দোলন দমাতে এবার গোটা দেশজুড়ে মোবাইল ও ইন্টারনেটের ফোর জি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নেটা নাগরিককরা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের অ্যাপ ব্যবহার করতে পারছেন না।