নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল গোটা বাংলাদেশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্র লীগের যৌথ বাহিনীর দফায়-দফায় সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি সামলাতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম-সহ দেশের একাধিক শহরে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাতেই শিক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে সারা দেশে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে যাবতীয় পরীক্ষা। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গোটা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের তরফেও দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিয়েছে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন।
গত মাস খানেক ধরেই সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ বা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চলছিল। কিন্তু রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী এবং রাজাকার হিসাবে আখ্যা দেওয়ায় পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। মাঝ রাতেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান পড়ুয়ারা। সোমবার সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ছাত্রলীগের কুখ্যাত গুন্ডাদের লেলিয়ে দেয় সরকারের শীর্ষ মহল। পুলিশের মদতে ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক মারধর করে ছাত্র লীগের কুখ্যাত গুন্ডারা।
মঙ্গলবার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। যুযুধান দু’পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় দফায়-দফায় সংঘর্ষ ঘটে। সংরক্ষণ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামা আন্দোলনকারীদের উপরে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ ও ছাত্র লীগের সন্ত্রাসীরা। এমনকি বোমা নিক্ষেপও করে। গুলিতে চট্টগ্রাম, রংপুর ও চট্টগ্রামে মোট ছয়জন মারা যান। আর ওই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে দেশের ছাত্র সমাজ। রাতেই ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা রমপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনও ঘেরাও করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই রাতে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রক।