নিজস্ব প্রতিনিধি: নৃশংস ও হাড় হিম করা অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শিহরিত গ্রাম। শুক্র সকালেই সেখানে উঠেছিল কান্নার রোল। শনি সকালেও সেই কান্নার রোল থামল না। গতকালই গ্রামে এসেছিল মা আর ছেলের মৃত্যুর খবর। শনিবার এসেছে ছেলের বারার মৃত্যুর খবর। তবে গোটা গ্রাম যতটা না শোকস্তব্ধ তার থেকেই বেশি ক্ষুব্ধ। কেননা, সামনে এসেছে পরকিয়া ঢাকতে একটি পরিবারকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ঘটনাস্থল বীরভূম(Birbhum) জেলার বোলপুর(Bolpur) মহকুমার শ্রীনিকেতন ব্লকের রায়পুর(Raipur)-সুপুর পঞ্চায়েতের নতুনগীত গ্রাম। গতকাল এই গ্রামেই একটি বাড়িতে আগুন(Fire Incident) ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। সেই ঘটনায় গতকালই মারা গিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম স্ত্রী কেরিমা বিবি আর তাঁদের ছোট ছেলে আয়ান শেখ। শনিবার মারা গেলেন আব্দুল আলিমও। তাঁদের পরিবারের এখন একমাত্র জীবিত সদস্য হিসাবে রইল আব্দুলের বড় ছেলে বোলপুরে নব নালন্দা স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ওয়াসিম আখতার। বাবা, মা ও ভাইকে হারিয়ে সে এখন দিশেহারা।
গতকালই সামনে এসেছিল বাড়ির বাইরে থেকে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল আব্দুল আলিমের বাড়িতে। সেই ঘটনা কারা ঘটাতে পারে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। শেষে পুলিশি তদন্তে সামনে এসেছে পরকিয়ার সম্পর্ক ধামাচাপা দিতেই এই মারণ ষড়যন্ত্র রচেছিল আব্দুলেরই ভাইয়ের স্ত্রী এবং গ্রামের এক হাতুড়ে ডাক্তার। পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই মহিলাকে আটক করেছে। তবে হাতুড়ে ডাক্তার গা ঢাকা দিয়েছে। আব্দুলরা ৪ ভাই। প্রত্যেকের আলাদা সংসার। তাঁদের মধ্যে আলিম মেজো। বড় ভাই সেকেন্দার আলি স্থানীয় জল দফতরে কাজ করেন। সেজ ভাই শেখ হালিমের গাড়ি ভাড়ার ব্যবসা রয়েছে। ছোট ভাই মোহাম্মদ আলি চাষবাস করে দিন গুজরান করেন। ভাইদের মধ্যে আর্থিকভাবে কিছুটা সম্পন্ন ছিলেন আলিম। পুলিশি তদন্তে সামনে এসেছে শেখ হালিমের স্ত্রী স্মৃতি বিবির সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল গ্রামেরই হাতুড়ে ডাক্তার শেখ চন্দনের। সেই ঘটনার কথা জানতে পেরেছিলেন আব্দুল।
ওই পরকিয়ার সম্পর্ক ঢাকা দিতেই আব্দুলের পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন স্মৃতি বিবি আর শেখ চন্দন। পুলিশ ইতিমধ্যে স্মৃতিকে আটক আটক করছে। যদিও শেখ চন্দনের খোঁজ মিলছে না। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেসিবি ও ট্রাক্টরের ব্যবসা ছিল আব্দুলের। বেশ কয়েক বছরে তাঁর ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। ব্যবসায় উন্নতি করার লক্ষ্যে আরও একটি জেসিবি কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। জেসিবি ও ট্রাক্টর দুটো থাকার কারণে বোলপুরের অনেক নির্মাণ ঠিকাদার তাঁকে নিয়মিত কাজ দিতেন। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। তাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পিছনে কোনও ব্যবসায়িক শত্রুতা আছে কিনা এখন সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় সব থেকে বেশি ভেঙে পড়েছে আব্দুলের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ওয়াসিম। বাবা, মা, ভাইকে হারিয়ে এখন সে কার্যত দিশাহারা। জীবন কীভাবে চলবে আগামী দিনে সেই ভাবনাটুকুও সে ভুলে গিয়েছে স্বজনদের হারিয়ে। কার্যত বাকরুদ্ধ অবস্থা তাঁর।