পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কালীপুজোর ঠিক দুই দিন আগে পালিত হয় ধনতেরাস। ধনতেরাস থেকেই শুরু হয় মহা উৎসব। জানা যায়, ধনতেরাস হল ধন্বন্তরীর পূজা। হিন্দু ঐতিহ্য অনুসারে কথিত আছে, সমুদ্র মন্থনের সময় ধন্বন্তরী আবির্ভূত হয়েছিলেন, যাঁর এক হাতে ছিল অমৃত এবং অন্য হাতে আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত পবিত্র পাঠ। তিনি দেবগণের চিকিৎসক হিসেবে বিবেচিত হন। ধন্বন্তরীকে আবার বিষ্ণুর অবতার বলেও মান্য করা হয়। কথিত আছে, এই দিনে বেশ কিছু জিনিস কিনলে সারা বছর সৌভাগ্য বিরাজ করে ৷ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ধনতেরাসে গৃহিনীরা সোনা কিনে থাকেন, কিন্তু বর্তমানে সোনার দাম শুনলেই ছ্যাঁকা লাগছে আমজনতার। তবে ধনতেরাসে কম খরচে কিনতে পারেন ৬ টি জিনিস। যেগুলি কিনলে প্রসন্ন হবেন মা লক্ষ্মী। ঝটপট জেনে নিন সেগুলি।
১. ঝাড়ু : অনেকেই বিশ্বাস করেন ধনতেরাসের দিন ঝাড়ু কেনা উচিত। কথিত রয়েছে, ধনতেরাসের দিন বাড়িতে ঝাঁটা কিনে আনলে সংসারের সুখ সমৃদ্ধি দ্বিগুণ হয়। অলক্ষ্মী বিদায় হয়ে ঘরে আসে লক্ষ্মী। আসলে ঝাঁটাকে পরিচ্ছন্নতার প্রতীক বলে ধরা হয়। আর যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আছে, সেখানেই দেবী লক্ষ্মীর স্থান, তাই ধনতেরাসে ঝাড়ু কেনা শুভ বলে মনে করা হয়।
২. পিতলের পাত্র : পিতল মা লক্ষীর প্রিয় ধাতু। এছাড়াও পিতলের ব্যবহার নানা ভাবে উপকারী। তাই ধনতেরাসের দিন পিতলের পাত্র কেনা শুভ বলে মনে করা হয়। এই দিন অন্যান্য ধাতুর বাসনও কিনতে পারেন।
৩. মাটি ও ধাতব মূর্তি : পাঁচটি উপাদানের প্রতীক হল মাটির মূর্তি। তাই মাটির মূর্তি দিয়ে পূজা করলে ঘরে ধন, সমৃদ্ধি এবং সুখ আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। মাটির মূর্তি ছাড়াও ধনতেরাসে ঘরে আট ধাতু এবং সোনা-রূপা, জার্মান সিলভার, বা পেতলের তৈরি প্রতিমাও আনতে পারেন।
৪. পান : পান মা লক্ষ্মীর খুব প্রিয় জিনিস। তাই ৫টি পান কিনে দেবীকে নিবেদন করা শুভ বলে গণ্য হয়। এতে সারা বছর অর্থভাগ্য থাকে তুঙ্গে, বাড়ে সুখ সমৃদ্ধি।
৫. গোটা ধনে : সারা বছর দেবী লক্ষ্মী এবং ধনকুবেরের আশীর্বাদ পেতে ধনতেরাসে তাঁদেরকে ধনে নিবেদন করতে পারেন। এতে সারা বছর অর্থের অভাব হবে না। দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ সর্বদা বর্ষিত হবে।
৬. কড়ি : প্রাচীনকাল থেকে কড়িকে অর্থ হিসাবে বিবেচনা করে ব্যবসা বাণিজ্য করা হত। আসলে কড়ি হল সম্পদ ও ধনলক্ষ্মীর প্রতীক। তাই ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মীকে কড়ি নিবেদন করলে যথেষ্ট সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া ঠাকুরের আসনে মা লক্ষ্মীর সামনে কড়ি রাখলেও তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হন।