নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের সঙ্গে সঙ্গে কপাল পুড়তে শুরু করল ভারতের ‘বিতর্কিত’ শিল্পপতি গৌতম আদানির। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তি খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। ওই কমিটি আদানি গোষ্ঠীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তিতে শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলি কীভাবে সম্পাদন করা হয়েছে, তাতে কোনও ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখবে। কোনও ত্রুটি পাওয়া গেলে চুক্তি বাতিল করা হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল আলম।
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময়ে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ ও ‘আদানি পাওয়ার’ এর মধ্যে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় বিদ্যুৎকেন্দ্রওও স্থাপন করে আদানি পাওয়ার। আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ দেশে এনে জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে বিশেষ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ায় দুটি সাবস্টেশনও গড়ে তোলা হয়।
যদিও আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের চুক্তি নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আদানি গোষ্ঠীর কাছ থেকে বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের গোড্ডায় অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা কিনতে ঢাকার কাছ থেকে আদানি গোষ্ঠী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগ ওঠার পরেই গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। গৌতম আদানির সংস্থার সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিলেরও দাবি ওঠে। যদিও সেই দাবিতে কর্ণপাত করেনি শেখ হাসিনা সরকার। কিন্তু গত ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ক্ষমতায় এসেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ সরকার। যারা কট্টর ভারত বিরোধী হিসাবেই পরিচিত। ক্ষমতায় এসেই আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।