নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: কাটল না ডিএ মামলার জট। সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছোল ডিএ মামলার শুনানি। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে পরবর্তী শুনানি হবে ২৬ অগস্ট। গত সপ্তাহে টানা তিনদিন ধরে চলেছিল ডিএ মামলার শুনানি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবাল অন্য মামলার শুনানি নিয়ে ব্যস্ত। তাই শুনানির তারিখ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে শীর্ষ আদালত।
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মামলা এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। সেজন্যই গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়েছিল পরবর্তী শুনানি হবে মঙ্গলবার। সেই মতো সব ঠিকই ছিল কিন্তু মঙ্গলবার জানা যায় যে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবাল অন্য একটি মামলা নিয়ে গুরুতর রকমের ব্যস্ত। তাই ডিএ সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে পাওয়া যাবে না। সেই জন্যই বাধ্য হয়ে আবারও পিছিয়ে দিতে হল মামলার শুনানি।
ডিএ অশান্তির শুরু বহুদিনই। রাজ্য সরকারই কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একটাই দাবি ছিল কেন্দ্রীয় সরকার যে হারে তার কর্মচারীদের ডিএ দেয়, সেই হারে রাজ্য সরকারের উচিত রাজ্য কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া। এই নিয়েই মামলার সূত্রপাত।
এরপর স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল অর্থাৎ SAT-এর কাছে এই মামলা যায়। তারপর সেখান থেকে মামলা ডিএ মামলা বিচারাধীন হয় হাই কোর্টের। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মীরা। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২২ সালে সরকারি কর্মীদের হয়েই রায় দান করেছিল। আদালতে বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল ডিএ তো সরকারি কর্মচারীদের অধিকার, সেই অধিকার থেকে রাজ্য কখনওই সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করতে পারে না। কেন্দ্রীয় হারেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ দিতে হবে।
এরপর রাজ্য হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দ্বারস্ত হয় সুপ্রিম কোর্টের। ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর ডিএ মামলার প্রথম শুনানি হয় শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্দেশ দিয়েছিল ২৫% ডিএ মিটিয়ে দিতে হবেই। কিন্তু রাজ্য এখনও সেই নির্দেশ পালন করেনি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে এখনো ডিএ’র কোন অঙ্কই আসেনি। বরং আদালতের কাছে রাজ্য সরকার এখন সময় চেয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার শুনানি হল না। ২৬ শে আগস্ট শুনানি হলে কী যে হবে, আদৌ কি ডিএ পাওয়া যাবে, গেলে কতখানি পাওয়া যাবে, কবে পাওয়া যাবে এসব নিয়ে অকুল পাথারে পড়েছেন সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্তরা।