নিজস্ব প্রতিনিধি : পুলিশ আছে, তাই ভরসা আছে। কিন্তু পুলিশ চলে গেল কী হবে? সেই আতঙ্কে ঘুম উড়েছে মোথাবাড়ির গ্রামগুলোর। এই গ্রামের মহিলারা এখন প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের সামনে শান্তিতে থাকার আবেদন জানিয়েছেন মোথাবাড়ির মহিলারা।
মোথাবাড়ি এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই কারও। মহিলাদের এখন শুধু একটাই চিন্তা, পুলিশ চলে গেলে সেই বীভৎস দিনটা ফিরে আসবে নাতো। রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে নিজেদের আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছেন অসহায় মহিলারা। হাত জোর করে তাঁর কাছে আর্জি জানিয়ে বলেছেন, তাঁরা শান্তিতে থাকতে চান।
ঘটনার ছয়দিন পর রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় সহ তিন সদস্যের একটি দল মোথাবাড়ি পরিদর্শনে পৌঁছন। মোথাবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত চারটি গ্রাম পরিদর্শন করে কথা বলেন উভয় পক্ষের মহিলাদের সঙ্গেই। পুলিশের ভুমিকা নিয়েও তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন। প্রতিটি গ্রামের মহিলারা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আতঙ্ক তাঁদের কাটেনি।
সেই দিনের ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে শিউরে উঠছেন অনেক। চোখ বন্ধ করলেই সামনে সেদিনের ঘটনার প্রতিচ্ছবি তাঁরা আজও স্পষ্ট অনুভব করেন। সবজি বিক্রেতা শঙ্করী মন্ডলের কথায়, ৪৩ বছর ধরে মোথাবাড়ি স্ট্যান্ডে সবজি বিক্রি করছেন। কোনদিন এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর পরিবারের পুরুষদের অনেককেই তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মহিলারা। এর আগে কোনদিন এমন ঘটনা এলাকায় ঘটেনি। তাঁরা শান্তি চান। আপাতত পুলিশ আছে তাই কিছুটা হলেও আতঙ্ক কেটেছে। পুলিশ উঠে গেলে আবার কি হবে এ নিয়েই আতঙ্কে রয়েছে আমরা।
উল্লেখ্য, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল মোথাবাড়ি থানার বিভিন্ন এলাকা। একাধিক গ্রামে ভাঙচুর ইট পাটকেল ছড়ার অভিযোগ ওঠে দুই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেশ কয়েকদিন কেটে যায় পুলিশের। এখনো মোথাবাড়ি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মোতায়েন রয়েছে গ্রামে গ্রামে পুলিশ। নিয়মিত টহলদারি চলছে পুলিশের। মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, গ্রামগুলির অবস্থা বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গুজব উস্কানিমূলক কার্যকলাপেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এখনো গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। সমস্ত গ্রামগুলি ঘুরে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি ও তাঁর টিম। কোথাও কোন মহিলা সে তেমন আক্রান্ত হননি। তবে এই ধরনের ঘটনা মোথাবাড়িতে এর আগে ঘটেনি।
তিনি বলেন, এলাকাকে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে যেন সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সেই দিকটা নজর রাখার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ যেন নিয়মিত মনিটারিং করে এই সমস্ত বিষয়গুলো। এরপরেই সব বিষয়টি দেখে রিপোর্ট করে রাজ্য মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে বলে জানান চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।