নিজস্ব প্রতিনিধি : একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান। এই লেখাই অনেকটা সত্যি করেছে মোথাবাড়ির অলিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের ছবি। সন্দীপ সাহা এবং অপরজন সোলেমান শেখ বছর ৮-র খুদে দুজন একই ক্লাসের পড়ুয়া। পাশাপাশি বসে বই থেকে পড়াশোনা করা, একই থালায় খাওয়া, কোনওটাই বাদ নেই। তাঁদের দেখলে বিভাজন শব্দটাই মিথ্যে মনে হয়। স্কুলের ঝাঁ চকচকে ডাইনিং টেবলে একই স্টিলের থালা থেকে ভাত-তরকারি খাওয়ার ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। মিড ডে মিলেই ফুটে উঠেছে সম্প্রীতির ছবি।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, স্টিলের থালায় ভাতের উপরে ছড়ানো রয়েছে সয়াবিন ও আলুর ঝোল। পাশাপাশি বসে সেই থালায় ভাত মাখতে ব্যস্ত দুই বালক। তাদের একজন সন্দীপ সাহা এবং অপরজন সোলেমান শেখ। একই সঙ্গে ভাত মেখে খাচ্ছে তারা। আবার একই বেঞ্চে বসে একই বই থেকে পড়াশোনা করতে দেখা গিয়েছে। ওরা ছোটো, বিভাজনের শব্দটাই বোঝে না। তাই সম্প্রীতির ছবি সকলের মন কেড়েছে।
জানা গিয়েছে, মোথাবাড়ি বিধানসভার বাঙিটোলা চক্রে ১৯৪৭ সালে গড়ে ওঠে অলিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলে প্রাক্ প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ২৮১জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রধান শিক্ষক সহ ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন এখানে। স্কুল বাড়ির দেওয়াল জুড়ে কার্টুন এবং মনীষীদের ছবি। মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য ঝা চকচকে ডাইনিং রুম। সন্দীপের বাবা শম্ভু সাহা ভ্যানচালক। আর সোলেমানের বাবা রসুল শেখ দিনমজুর। সন্দীপ তিন ভাই এবং সোলেমানের পাঁচ বোন ও তিন ভাই। প্রায় আট মাস আগে স্কুলের ডাইনিং রুমে মিড-ডে মিল এক থালায় সন্দীপ এবং সোলোমানকে খেতে দেখে মোবাইলে ভিডিওটি করেন স্কুলেরই শিক্ষক রবিউল ইসলাম। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছিলেন রবিউল। মোথাবাড়ি এবং মুর্শিদাবাদে অস্থিরতার পরে এই ভিডিয়ো তিনি ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।