নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রবল বৃষ্টিতে বাজ পড়ে প্রাণ হারালেন দুই ব্যক্তি। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেই মত সন্ধ্যে নামার আগেই স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল শহর। বেশিরভাগ জেলাতেই ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বয়েছে। দু-একটা জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাতেই প্রাণ হারান দুই ব্যক্তি। একজন হরিহরপাড়া, অন্যজন মালদার। সুতরাং বৃষ্টি যেমনি স্বস্তি দিল, তেমনি বাজ পড়ে প্রাণ কেড়ে নিল দুই নিরীহ যুবকের। ইংলিশ বাজার ব্লকের মহদীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একে গোপালন কলোনি এলাকায় বাজ পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম কৃষ্ণ দাস। বয়স ২৩ বছর। বাড়ি সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে মালদা মহদিপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের ধারে পাথর বোঝায় লরি লোডিং আনলোডিংয়ের কাজ করছিল ওই শ্রমিক। ঠিক সেই সময় হঠাৎ ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। পাথর বোঝাই একটি লরির নিচে আশ্রয় নেয় ওই শ্রমিক। ঠিক সেই সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে হরিহরপাড়া থানার দস্তুরপাড়া-গোবরগাড়া মাঠ এলাকায় আরেক ব্যক্তির এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন। মৃত ব্যাক্তির নাম শামল মাল বয়স প্রায় ৭০ বছর। বাড়ি হরিহরপাড়ার দস্তুরপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় খোলা আকাশের নীচে এক ঝুপড়িতে বসেছিলেন সমবয়সী তিনজন। হঠাৎ বাজ পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শ্যামলের। আর স্থানীয়রা সঙ্গে থাকা দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হরিহরপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে যান। সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই আকাশে মেঘের ঘনঘটা। আর সন্ধ্যা নামার আগেই আকাশ ফেটে বৃষ্টি শুরু হলো। এক পশলা বৃষ্টিতে যেন নিমেষেই তপ্ত শহর ঠান্ডা হল। তীব্র গরমের দাবদাহ থেকে মুক্তি পেলেন বঙ্গবাসী। তবে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও খুব বেশি হেরফের হল না। রোদ উঠলেই বাড়বে গরম ও অস্বস্তি। বৃহস্পতিবার বিকেল গড়াতেই একেবারে চোখ পাকিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে কালবৈশাখী। পূর্বাভাস আগেই ছিল। তাই দুপুর থেকেই আকাশে গুমোটভাব নজরে পড়েছে সক্কলের। সন্ধ্যা থেকেই বৃষ্টিতে ভিজল তিলোত্তমা। যদিও সকাল থেকে কাঠফাটা রোদে পুড়েছে কলকাতা। পাখার নিচে বসেও মিলছিল না শান্তি। ঘামে নাস্তানাবুদ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের। ঘর থেকে বের হলেই জ্বলে যাচ্ছে হাত-পা। তাই চাতক পাখির মতো আকাশের পানে চেয়েছিলেন বঙ্গবাসী। আজ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং হাওড়া জেলায়। আজ কলকাতায় বৃহস্পতিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি।