নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের নাগরিকত্বের অন্যতম বড় প্রমাণ(Citizenship Proof) হল Passport। আর তাই বিদেশে যেতে গেলেও এই Passport থাকাও একান্তই ভাবে প্রয়োজন। সেই সূত্রে নিত্যদিন রাজ্যের কয়েক শো মানুষ Passport’র জন্য আবেদন জানান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, এই Passport’র নথি যাচাইয়ের জন্য আবেদনকারীর বাড়িতে যাওয়া আধিকারিকেরা বেশ মোটা অঙ্কের টাকা তথা ‘ঘুষ’(Bribe) চান। এই রোগ কয়েক দশক ধরে গেঁথে রয়েছে। সেই দাবি মানা না হলে বহু ক্ষেত্রে নথির তথ্য ভুল বা তাতে ত্রুটি রয়েছে জানিয়ে Passport’র জন্য আবেদনকারীর আবেদন বাতিলের সুপারিশও করে দেই ওই সব আধিকারিকেরা। যেহেতু স্থানীয় থানা থেকে পুলিশের আধিকারিকেরা গিয়ে সেই নথি যাচাইয়ের কাজ করেন তাই, এক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রতিটি ক্ষেত্রে। সেই সব অভিযোগ থেকে গোটা বিষয়টি মুক্ত রাখতে এবার রাজ্য পুলিশের তরফে Bodycam বা Body Camera’র ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। Passport’র নথি যাচাইয়ের কাজে যে সব পুলিশের আধিকারিক বা কর্মীরা যাবেন তাঁদের পোষাকেই Bodycam লাগাতে চাইছে রাজ্য পুলিশ(West Bengal State Police)।
আরও পড়ুন, পুজোর মুখে বন্যা ঠেকাতে নজরে মজে যাওয়া খাল ও ছোট নদীর সংস্কার
Passport’র নথি যাচাইয়ের কাজে আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে ‘ঘুষ’ চাইছেন পুলিশ কর্মী বা আবেদনকারীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, এই ধরনের অভিযোগ ওঠে বিস্তর। এই ধরনের অভিযোগ এলে অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়। দু’পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসতে হয়। পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অভিযোগকারী বলতে শুরু করেন, বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট উর্দিধারীকে। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তারও অভিযোগ আনা হয়। আবার আইনরক্ষক দাবি করেন অভিযোগকারী নথি ঠিকমতো দিতে না-পারায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। এই নিয়ে জেরবার রাজ্য পুলিশের কর্তারা। অফিসারদের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগও ওপরতলায় করে বসেন আবেদনকারী। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে সামনে এসেছে অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে। ফলে পুলিশের মুখ পুড়েছে। সেই কারণেই এবার রাজ্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবার থেকে গোটা প্রক্রিয়াকে ক্যামেরাবন্দি করার জন্য Bodycam ব্যবহার করা হবে।
আরও পড়ুন ধাপে ধাপে বর্ধমান পুরসভাকে উন্নিত করা হবে পুরনিগমে
এর জেরে এবার থেকে, যে অফিসার আবেদনকারীর বাড়িতে যাবেন Passport’র নথি যাচাইয়ের কাজে তাঁকে Bodycam সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। নথি যাচাই ও আবেদনকারীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করার সময় সেটি পরতে হবে, যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে। এতে গোটা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা থাকবে। আবেদনকারী কোনও অভিযোগ করলে ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সত্যাসত্য যাচাই করা যাবে। তার ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করতে কোনও অসুবিধা হবে না। মিথ্যা অভিযোগ আনলে পুলিশ কর্মীও প্রমাণ করে দিতে পারবেন বিষয়টির কোনও সারবত্তা নেই। আর তাই ইতিমধ্যেই Bodycam কেনার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েও গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ৪০০’র বেশি ক্যামেরা কেনার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধীরে ধীরে এর সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্ত জেলায় পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।