নিজস্ব প্রতিনিধি: সাধারণত বাংলা(Bengal) থেকে বর্ষা(Monsoon) বিদায় নেওয়ার তারিখ ১০ অক্টোবর। কিন্তু প্রতিবছর যে বর্ষা এই সময়েই বিদায় নেয় এমন নয় কিন্তু। কখনও এই তারিখের আগে নেয়, তো কখনও পরে। এবারে বর্ষা বিদায়ের লগ্নেই বাঙালির মহোৎসব দুর্গাপুজো(Durga Puja)। আর একইসঙ্গে গত দেড়-দুই দশক ধরে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের বুকে বর্ষা এসে যত না বৃষ্টি ঝরায়, তার থেকে সে বেশি বৃষ্টি ঝরায় বিদায় নেওয়ার মুহুর্তে। আর তার জেরে ২-৩ বছর আগে পর্যন্তও প্রতিবছর পুজোর মুখে বানভাসি হতো দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। এবারে সেই পরিস্থিতি যাতে না হয় তার জন্য এখন থেকেই কোমর বাঁধছে রাজ্য সরকার। বর্ষার শেষ দিকে পুজোর মুখে যাতে রাজ্যে বন্যার মতো পরিস্থিতি না-তৈরি হয়(Preventing Flood), তার জন্য বিভিন্ন জেলায় মজে যাওয়া খাল ও ছোট নদীগুলির পলি সংস্কারের(Dredging) প্রস্তাব দ্রুত কার্যকর করার কথা বিবেচনা করছে রাজ্যের সেচ দফতর(Irrigation Department)।
আরও পড়ুন, ধাপে ধাপে বর্ধমান পুরসভাকে উন্নিত করা হবে পুরনিগমে
টানা বৃষ্টি ও ডিভিসি-র ছাড়া জলে সপ্তাহ খানেক আগেই প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের অনেকগুলি জেলায়। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে ডিভিসি ও অনান্য জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শুধু তাই নয়, তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও সরাসরি ফোন করে সেখানকার জলাধার থেকে জলা ছাড়ার পরিমাণ কম রাখার কথাও জানিয়েছিলেন। কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া পদক্ষেপের জন্যই এবার দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বানভাসি হওয়া থেকে বেঁচেছে। কিন্তু পুজোর মুখে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হ্য তার জন্য এখন থেকেই পদক্ষেপ করতে চাইছে নবান্ন। সেই কারণেই বিভিন্ন জেলায় মজে যাওয়া খাল ও ছোট নদীগুলির পলি সংস্কারের প্রস্তাব দ্রুত কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেই কারণে ইতিমধ্যে রাজ্যের সেচ দফতর থেকে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের চিঠি দিয়ে মজে যাওয়া বা যেতে বসা ছোট নদী ও খালগুলিকে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের সেচ সচিব প্রভাত মিশ্র।
আরও পড়ুন, আর জি কর কাণ্ডে মৃত তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের সেচ দফতরের সচিব জানিয়েছেন, মজে যাওয়া খাল ও ছোট নদীগুলির পলি সংস্কার না করলে কোনও ভাবেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আটকানো যাবে না ভাঙনও। অতি বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হওয়ার অন্যতম কারণ ক্রমাগত পলি জমে খাল ও ছোট নদীগুলি মজে যাওয়া। সেগুলি জল ধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে। তাই এখনই জেলায় জেলায় মজে যাওয়া বা জল ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া খাল ও নদীগুলি চিহ্নিত করে পলি তুলে সংস্কারের প্রস্তাব পেশ করতে বলা হয়েছে। এটা দ্রুত না-করা গেলে বর্ষায় বন্যার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, পলিতে মজে যাওয়া খালগুলির জমি জেলা কালেক্টরেটের নামেই রেকর্ড করা রয়েছে। তার ফলে এগুলি চিহ্নিত করে পলি তোলার কাজ করা সহজ হবে। রাজ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য সরকার আগেই বৃষ্টির জল ধরে রাখতে জেলায় জেলায় ‘জল ধরো, জল ভরো’ কর্মসূচির মাধ্যমে পুকুর কাটার উদ্যোগ নিয়েছে। ১০০ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে এই কর্মসূচি রূপায়ণ করা হয়েছে। এতে জেলাগুলিতে সরকারি জমিতে লক্ষাধিক পুকুর কাটা হয়েছে। এ বার সরকার ধাপে ধাপে মজে যাওয়া খাল ও ছোট নদী সংস্কার করতে চায়।