নিজস্ব প্রতিনিধি : কারও নাম রামনিধি। কেউ আবার রামলোচন। কাউকে আবার ডাকা হয় রামচরণ নামে। কেউ আবার গ্রামে রাম দা বলেই পরিচিত। বাঁকুড়ার রামপাড়ার গ্রামের সকল পুরুষের নামই শুরু রামের নামেই।
বাঁকুড়া জেলার আঁচুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পশ্চিম সানাবাঁধ গ্রামের রাম পাড়ায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারের বাস। সেই সবকটি পরিবারেই পুরুষ সদস্যের নাম শুরু হয় রাম দিয়ে। এযেন রামের প্রতি নিবেদিত প্রাণ। কেনই বা সকল পুরুষদের নাম রাখা হয় রাম দিয়ে, জানেন ? আসুন রামনবমীর দিনেই জেনে নেওয়া যাক সেই রহস্য।
বাঁকুড়ার এই পাড়াতে ঢুকলে রাম রাজত্ব বলেই মনে হবে। প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতেই রয়েছে রামের নামে ফলক। পাড়ার শেষে শতাধিক প্রাচীন রাম মন্দির রয়েছে। জানা গিয়েছে, অযোধ্যা থেকে কর্মসূত্রে রমসরণ মুখার্জী এসেছিলেন এই গ্রামে।আনুমানিক ২৫০-৩০০ বছর আগে ওই মন্দিরেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন রাম। ওই গ্রামের সকলেই রামের সেবাইত। ওই গ্রামের প্রায় সব পুরুষের নামই রাখা হয়ে রামের নামে।
রামনবমী উপলক্ষ্যে সাজোসাজো রব এই পাড়ায়। রামপাড়ায় পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আট পুরুষ আগে এই শালগ্রাম অযোধ্যা থেকে নিয়ে এসেছিলেন তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ। এখন এদের সকলেরই কুলদেবতা রাম। রামমন্দির উদ্বোধনের দিন যেমন উচ্ছ্বাসে ভেসেছিল এইগ্রাম, তামনই রামনবমীতে বিশেষভাবে মেতে ওঠেন এই পাড়ার সকলেই। ওই পাড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারের বাস। তাঁরাই জানিয়েছেন, তাঁদের গুরুদেবই ঠিক করে দেন নবজাতকের নাম।