নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজনগর: সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে একাধিক সময় নানা ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তাদের দাদাগিরি, ঘুষ নেওয়ার ঘটনা অথবা গাড়ি চালকদের নাকা চেকিং-এ হেনস্তা করার খবর একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বীরভূম জেলার রাজনগরে এক ভবঘুরেকে চুল – দাড়ি কাটিয়ে নতুন পোশাক পরিয়ে পেট পুরে খাইয়ে প্রশংসা কুড়লেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। তার এই মহৎ কাজকে সঙ্গ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন সহকর্মী ও এলাকার মানুষজন। বীরভূমের রাজনগরে(Rajnagar) এখন খবরের শিরোনামে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। জানা গেছে রাজনগর ব্লক টি ঝাড়খন্ড রাজ্য লাগোয়া। সেখানে খাস বাজার গ্রামে থাকেন ৩৫ বছরের বাবন দে। রাস্তায় ঘুরে বেড়ান দিনের পর দিন চুলদাড়ি কাটেননি, শরীর জীর্ণ পরনে ময়লা জামা কাপড়।
নিজের মনে বিড়বিড় করেন আর বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ান এদিক সেদিকে। কেউ কিছু দিলে আবার খান না। কারোর কাছে আবার কিছু আবদারও করেন না। ওই এলাকায় ডিউটি করছিলেন রাজনগর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার শেখ পাপ্পু(Sk.Pappu)। তিনি দেখতে পান একটি খাবারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ওই ভবঘুরে। পাপ্পু বুঝতে পারেন ওই ভবঘুরের খিদে পেয়েছে। তিনি ওই দোকান থেকে ওই ভবঘুরেকে খাবার কিনে দেন। এরপর ফোন করে থানা থেকে নিজের অন্যান্য সহকর্মীদের ডাকেন। তারা চলে এলে ওই ভবঘুরেকে বাবন নিয়ে যান সেলুনে। সেখানে তার চুল দাড়ি কাটান। এরপর নিজের হাতে সাবান মাখিয়ে স্নান করান ওই ভবঘুরেকে। নতুন জামা কাপড় কিনে এনে দেন তার পছন্দের মত। এরপরই ভবঘুরেকে তা পড়ানো হয়। দুপুরে হোটেলে নিয়ে গিয়ে খাওয়ানো হয়। স্থানীয় মানুষের জন্য এই সিভিক ভলান্টিয়ারের সামাজিক কাজকে প্রশংসা করেন। সকলে হৈ হৈ করে এগিয়ে এসে ওই ভবঘুরের সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ারের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন। পরে সিভিক ভলান্টিয়ার শেখ পাপ্পু বলেন, খাবারের দোকানের সামনে ভবঘুরে বাবনকে(Baban) দেখে তিনি বুঝেছিলেন ওর খিদে পেয়েছে।
তাই তাকে সহযোগিতা করেন তিনি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই ভবঘুরে কে পরিষ্কার করে নতুন জামা কাপড় পরান এবং স্নান করান। বাবন রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেও ওই এলাকায় তার বাড়ি। তার বাবা অনেকদিন আগে মারা গিয়েছেন। মা কল্যাণী দে পরিচারিকার কাজ করেন। অভাবের ঘরে মেধাবী ছাত্র ছিল বাবন। কিন্তু তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তার মা সারাদিন লোকের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করে বাড়ি ফিরে রান্না করে ছেলের জন্য অপেক্ষা করে। কোনদিন ছেলে আসে খেতে। কোনদিন আসে না। আবার খিদে পেলে কারোর কাছে লজ্জায় কিছু চায় না। এদিন দুপুরে নতুন জামা কাপড় পড়ে হোটেলে পেটভরে খেয়ে বাবুন বলে ওঠে খুব ভালো করে খেলাম। তারপর নিজের জামা কাপড়ের দিকে তাকিয়ে নিজেই হাসতে থাকেন। সকলে বুঝতে পারেন ভীষণ খুশি হয়েছে আজ বাবন। এইরকম যত্ন সে বহুদিন পর পেল। হয়তো মনের মনি কোঠায় অভিমান জমেছিল। যা আজ গলে জল হল।